অভিজিৎ রায় চৌধুরী
নয়াদিল্লি, ২৬ জুন : লোকসভার আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনের আগেই বিদ্রোহী ২০ জন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) লোকসভা সাংসদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে পারে। দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের অবস্থান নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা।
সূত্রের খবর, লোকসভা সচিবালয় বর্তমানে ব্যাপক আইনি পরামর্শ গ্রহণ করছে। সংবিধানের দশম তফসিল (টেন্থ শিডিউল) এবং এ-সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় খতিয়ে দেখে বিদ্রোহী সাংসদদের আবেদনের বিষয়ে সুপারিশ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। বিদ্রোহী সাংসদরা সদ্য গঠিত, কিন্তু এখনও অস্বীকৃত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে একীভূত হওয়ার পর লোকসভায় স্বীকৃতি চেয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে সরকারি মহল এখনও মুখে কুলুপ এঁটেছে। সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, দলত্যাগ-বিরোধী আইনের অধীনে দায়ের হওয়া আবেদনের নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট সাংসদরা লোকসভায় স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা স্পিকারেরই রয়েছে।
এই মামলাটি লোকসভা সচিবালয়ের সামনে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। কারণ, এর আগে কখনও কোনও অস্বীকৃত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংসদীয় গোষ্ঠীকে লোকসভায় স্বীকৃতি দেওয়া বা তাদের জন্য পৃথক আসন বরাদ্দ করার ঘটনা ঘটেনি। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিষয়টির আইনি ও সংসদীয় প্রক্রিয়াগত দিকগুলি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, বিদ্রোহী টিএমসি সাংসদদের সংক্রান্ত কার্যক্রমের বিস্তারিত জানতে লোকসভা সচিবালয়ে একাধিক তথ্যের অধিকার (আরটিআই) আবেদন জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনের আগে রাজনৈতিক ও সংসদীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ইস্যুকে ঘিরে জনসাধারণের আগ্রহও ক্রমশ বাড়ছে।
























