News Flash

  • Home
  • প্রধান খবর
  • জরুরি অবস্থা ছিল সংবিধান ও গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত: গণতন্ত্রের রক্ষকদের শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদি
Image

জরুরি অবস্থা ছিল সংবিধান ও গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত: গণতন্ত্রের রক্ষকদের শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

নয়াদিল্লি, ২৫ জুন (আইএএনএস): ১৯৭৫ সালে ঘোষিত জরুরি অবস্থার ৫১তম বর্ষপূর্তিতে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষায় সংগ্রাম করা সকল ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, জরুরি অবস্থা ছিল ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর সরাসরি আঘাত।

বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “আজ আমরা ভারতের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়, জরুরি অবস্থার সময় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করা সকল ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা জানাই।”

জরুরি অবস্থার সময়কালকে গণতান্ত্রিক নীতির ওপর গুরুতর আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জরুরি অবস্থা ছিল আমাদের সংবিধানের উপর সরাসরি আঘাত। সেই সময় নাগরিক স্বাধীনতা স্থগিত করা হয়েছিল, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল এবং রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। পাশাপাশি গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপরও আঘাত নেমে এসেছিল।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সেই কঠিন সময়ে বহু সাধারণ নাগরিক অসাধারণ সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিলেন এবং সাংবিধানিক আদর্শকে সমুন্নত রাখতে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন।

তাঁর কথায়, “জরুরি অবস্থার সময় অসংখ্য নাগরিক নীরব থাকতে অস্বীকার করেছিলেন এবং সংবিধানে বর্ণিত আদর্শ ও মূল্যবোধ রক্ষায় অটল ছিলেন। তাঁদের সাহস ও আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রাণিত করে।”

সংবিধানের গুরুত্ব তুলে ধরে মোদি বলেন, “আমাদের সংবিধান ১৪০ কোটি ভারতীয়ের আশা-আকাঙ্ক্ষা, অধিকার ও কর্তব্যের প্রতিফলন। আমরা সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষার প্রতি আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি। সংবিধানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা এমন একটি ভারত গড়ে তুলব, যা ন্যায়, স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতি চিরকাল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।”

অন্য একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী ২৫ জুনকে ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই দিনটি ভারতীয় গণতন্ত্রের সামনে আসা কঠিন চ্যালেঞ্জগুলির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

মোদি লেখেন, “‘সংবিধান হত্যা দিবস’ আমাদের সেই অন্ধকার সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন ভারতীয় গণতন্ত্রকে নির্মমভাবে পদদলিত করা হয়েছিল। এই দিন আমাদের গণতন্ত্র, সংবিধান এবং নাগরিক অধিকার রক্ষায় আরও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে অনুপ্রাণিত করে। জরুরি অবস্থার বিরোধিতা করা সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে জানাই শ্রদ্ধা।”

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ সংবিধানের ৩৫২ অনুচ্ছেদের অধীনে ‘অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা’-র কারণ দেখিয়ে জরুরি অবস্থার ঘোষণা জারি করেন। এই পরিস্থিতির পটভূমিতে ছিল জয়প্রকাশ নারায়ণ-এর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক আন্দোলন।

পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী-র সরকার ২৫ জুন ১৯৭৫ থেকে জরুরি অবস্থা কার্যকর করে, যা ২১ মার্চ ১৯৭৭ পর্যন্ত বলবৎ ছিল। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই সময়কালকে অন্যতম বিতর্কিত ও অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Releated Posts

‘কোনও একটি ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়’: মোদির ‘ভজন ক্লাবিং’ নিয়ে কংগ্রেসের প্রশ্ন, পাল্টা বিজেপির

নয়াদিল্লি, ২৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় পার্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ভজন ক্লাবিং’ অনুষ্ঠানে যোগদানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক…

ByByNews Desk Sep 26, 2026

কেরলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও বিচারের দাবি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, বেণুগোপালের

ওয়ানাড, ২৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি তুললেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা…

ByByNews Desk Sep 26, 2026

কেরলে মহিলা-নেতৃত্বাধীন সমবায়ের পক্ষে সওয়াল অমিত শাহের

কুন্দারা (কোল্লাম), ২৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): কেরলের সমবায় ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী এম. লিজুকে নয়াদিল্লিতে এসে…

ByByNews Desk Sep 26, 2026

প্যাথোজেন অ্যাক্সেস ও সুফল বণ্টনে ন্যায্যতার পক্ষে ভারতের সওয়াল

নিউইয়র্ক, ২৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মহামারি প্রতিরোধ ও মোকাবিলা নিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্যান্ডেমিক…

ByByNews Desk Sep 26, 2026
Scroll to Top