জম্মু, ২৫ জুন (আইএএনএস): জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়ার জেলার দুর্গম মাচাইল অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল সীমান্ত সড়ক সংস্থা (বিআরও)। গুলাবগড় ও মাচাইলের মধ্যে সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য চিশোটি এলাকায় ১৪০ ফুট দীর্ঘ একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুনীল বার্তওয়াল এক বিবৃতিতে জানান, ‘প্রজেক্ট সমপর্ক’-এর অধীনে ৩৫ বর্ডার রোডস টাস্ক ফোর্সের ১১৮ রোড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি মাত্র ১২ দিনের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করেছে।
তিনি একে “প্রকৌশল দক্ষতা এবং জাতি গঠনের প্রতি অঙ্গীকারের এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য” বলে উল্লেখ করেন।
গত বছরের ১৪ আগস্ট ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে এই এলাকার পুরনো সেতুটি ভেসে গিয়েছিল। ফলে দুর্গম মাচাইল অঞ্চলের সঙ্গে একমাত্র সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নতুন বেইলি সেতুটি সেই হারিয়ে যাওয়া সংযোগ পুনরুদ্ধার করল।
সেতুটির ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন হোয়াইট নাইট কর্পসের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং লেফটেন্যান্ট জেনারেল পি. কে. মিশ্র। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা এবং পাড্ডার-নাগসেনি কেন্দ্রের বিধায়ক সুনীল কুমার শর্মা।
দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সেতু নির্মাণের জন্য ব্যাপক ভূমি প্রস্তুতি, অ্যাবাটমেন্ট নির্মাণ, নির্মাণসামগ্রী পরিবহণ, বেইলি সেতু স্থাপন এবং সংযোগকারী রাস্তা তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এই কাজে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞরাও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিশ্র বিআরও এবং সেনা ইঞ্জিনিয়ারদের নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের প্রশংসা করে বলেন, এই প্রকল্প সংস্থার মূলমন্ত্র ‘শ্রমেণ সর্বং সাধ্যং’— অর্থাৎ ‘পরিশ্রমের মাধ্যমে সবকিছুই সম্ভব’—এর বাস্তব প্রতিফলন।
মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে গুলাবগড়-মাচাইল সড়কের দায়িত্ব বিআরও গ্রহণ করবে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সেই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে এবং শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা।
এই সড়কটি কিস্তওয়ার-গুলাবগড়-কুন্দল-মাচাইল করিডরের অংশ হওয়ায় কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে উমাসি লা পাস হয়ে লাদাখের জান্সকার উপত্যকার নিম্মুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এছাড়াও, এই পথ দিয়েই প্রতিবছর তিন লক্ষেরও বেশি পুণ্যার্থী বিখ্যাত মাচাইল মাতা মন্দিরে দর্শনের জন্য যাতায়াত করেন।
কর্তৃপক্ষের মতে, আগামী জুলাই মাসে অনুষ্ঠিতব্য মাচাইল মাতা যাত্রার আগে সেতুটির নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়ায় পুণ্যার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি, দুর্গম অঞ্চলের বাসিন্দাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনযাত্রার জন্য অত্যাবশ্যক যোগাযোগ ব্যবস্থাও পুনরুদ্ধার হল।


















