কলকাতা, ২৪ জুন (আইএএনএস): দক্ষিণ কলকাতার তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ধসে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার বিকেলে এই দুর্ঘটনার পর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৩ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে ভারতীয় সেনাবাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দমকল এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ বাহিনী উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরাতে ক্রেন ও গ্যাস কাটার ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন এবং পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ তদারকি করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিকেলে হঠাৎ করেই নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ে। সেই সময় বহু শ্রমিক ভিতরে কাজ করছিলেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
প্রথমে স্থানীয় মানুষজন উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল এবং এনডিআরএফের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গুদামের ভিতরে ঢালাই (ওয়েল্ডিং) কাজ চলাকালীন কোনও সমস্যা থেকে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। ওই সময় সেখানে ৫০-৬০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, মঙ্গলবারের ভারী বৃষ্টিতে নির্মাণসামগ্রী দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যার ফলে ছাদটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে।
উদ্ধারকারী দল লোহার বিম কেটে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা করছে। স্থানীয়দের দাবি, এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা কয়েকজন শ্রমিকের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে।
রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খান ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানান, বর্তমানে উদ্ধারকাজই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন স্মিতা পান্ডে এবং বিজেপি নেতা রাকেশ সিং।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সচিবালয় নবান্ন-এ একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে ঘটনাস্থলে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স মোতায়েন করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা শ্রমিকদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।



















