চেন্নাই, ২৩ জুন (আইএএনএস): তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়াপালায়মের কাছে একটি বেসরকারি সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও রফতানি কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯-এ পৌঁছেছে। মঙ্গলবার আরও এক শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর।
গত ২১ জুন কান্নিগাইপাইর-মানজাঙ্গারানাই এলাকার ওই কারখানায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ে তামিলনাড়ুর অন্যতম গুরুতর শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে এই ঘটনাকে দেখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস লিকের ঘটনায় মোট ৮০ জন শ্রমিক আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে দু’জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও এখনও ৬৯ জন চেন্নাই ও তিরুভাল্লুরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর মৃতের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ২১ জুন রাতে প্রথমে দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬ হয়। মঙ্গলবার সকাল নাগাদ আরও তিন শ্রমিকের মৃত্যু হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা ৯-এ পৌঁছায়।
মৃতদের অধিকাংশই ছিলেন ওই কারখানায় কর্মরত মহিলা পরিযায়ী শ্রমিক। সরকারি নথি অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে সাতজন ওড়িশার বাসিন্দা এবং বাকি দু’জন অসমের।
প্রশাসনের দাবি, গ্যাস লিকের সময় বহু শ্রমিক কর্মরত অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসকদের মতে, অ্যামোনিয়া গ্যাস শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করায় গুরুতর শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা তৈরি হয়।
আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেরই শ্বাসকষ্ট, চোখ ও শ্বাসনালিতে জ্বালা, লাগাতার কাশি এবং তীব্র শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়। বেশ কয়েকজন এখনও নিবিড় চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
আহতদের চেন্নাইয়ের ভেলস হাসপাতাল, ভেঙ্কটেশ্বরা হাসপাতাল, রাজীব গান্ধী সরকারি সাধারণ হাসপাতাল এবং স্ট্যানলি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি পরিষেবা, অ্যাম্বুল্যান্স এবং জনস্বাস্থ্যকর্মীদের মোতায়েন করা হয়। পুলিশ, দমকল ও উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালায়।
স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, আক্রান্ত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি কারখানা সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশগত সমীক্ষাও শুরু হয়েছে, যাতে গ্যাস লিকের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মূল্যায়ন করা যায়।
এদিকে, ঘটনাটির তদন্তে রাজ্য সরকারের গঠিত তিন সদস্যের কমিটি মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের কাছে অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা দিতে পারে বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকের সঠিক কারণ এখনও তদন্তাধীন। পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।
(আইএএনএস)



















