নয়াদিল্লি, ১৪ আগস্ট (আইএএনএস): সশস্ত্র নকশালবাদকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করতে ভারত সফল হয়েছে বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে তাঁর কথায়, “মানসিক নকশালবাদ” এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সুযোগ খুঁজে হিংসা ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে বলে সতর্ক করে তাদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার সময় দেশের নকশাল পরিস্থিতির কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, একসময় নকশাল হিংসায় দেশের মাটি রক্তে ভিজে গিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, নকশাল হিংসা থেকে দেশকে মুক্ত করার যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছিল, তা পূরণ হয়েছে। একসময় সশস্ত্র সংঘর্ষের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলিতে বর্তমানে মাওবাদীদের নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মতো শক্তি আর নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোদি বলেন, যে এলাকাগুলিতে একসময় নকশালদের বন্দুকের আওয়াজ শোনা যেত এবং রক্তের দাগ দেখা যেত, সেখানেই এখন উন্নয়ন, আস্থা ও প্রচেষ্টার তেরঙ্গা উড়ছে।
তবে সশস্ত্র নকশালদের পাশাপাশি মতাদর্শগত নকশালবাদের প্রসঙ্গেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী মানসিকতার কিছু মানুষ ক্ষমতার অলিন্দে প্রভাবশালী জায়গা দখল করে রেখেছিলেন। এমনকি সরকারের বিভিন্ন কমিটির উপদেষ্টা হিসেবেও তাঁরা কাজ করেছেন এবং সেই প্রভাবের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গলে সক্রিয় সশস্ত্র নকশালদের অনেকাংশেই নির্মূল করা সম্ভব হলেও মতাদর্শগত নকশালবাদ এখনও সক্রিয় এবং তারা হিংসা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির সুযোগ খুঁজছে। এই ধরনের “মানসিক নকশালদের” চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপের প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের সঙ্গেও এই বিষয়টিকে যুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তরুণদের মূলধারার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত রেখে দেশ গঠন এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার বৃহত্তর লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে নকশালবাদ নিয়ে সরকারি অবস্থানের পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। এতদিন যেখানে মূলত মধ্য ও পূর্ব ভারতের সশস্ত্র নকশাল আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আলোচনা হয়েছে, এবার প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন বুদ্ধিবৃত্তিক ও মতাদর্শগত পরিসর নিয়েও সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী।
–আইএনএস
















