নয়াদিল্লি, ২৩ জুন (আইএএনএস): ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (বিটিএ) চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। এই চুক্তি দুই দেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর।
মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য আলোচনার জন্য ভারতে পৌঁছানোর পর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে সার্জিও গর বলেন, “ভারতে স্বাগতম, ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাম্বাসাডর গ্রিয়ার। আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী বাণিজ্য কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে আপনার উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একটি শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলেছি, যা উভয় দেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং ভারত-আমেরিকা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।”
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনার এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে গ্রিয়ারের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সূত্রের খবর, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন। উভয় দেশই চুক্তির প্রথম পর্যায়ের কাঠামো চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সোমবারও সার্জিও গর জানিয়েছিলেন যে, প্রস্তাবিত চুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গ্রিয়ার এবং পীযূষ গোয়েলের মধ্যে একাধিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে দুই দেশের প্রধান আলোচকদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ইতিমধ্যেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ভারত ও আমেরিকা বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ের সমাধানের দিকে এগোচ্ছে এবং আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে চুক্তির প্রথম পর্যায় সম্পন্ন হতে পারে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে ঘোষিত এই শুল্ক বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ (এমএফএন) শুল্ক হারের অতিরিক্ত হিসেবে আরোপ করা হয়েছিল। ফলে নির্ধারিত সময়সীমার আগে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি দুই দেশের জন্যই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।



















