নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট (আইএএনএস): ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত দেশের গতি থামানো বা কমানোর কোনও সুযোগ নেই বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে শনিবার লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন, শতাব্দীর বাকি সময় ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আগামী ২৫ বছর দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০-১২ বছরে দেশবাসী যে সক্ষমতা ও সাফল্য দেখিয়েছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। শতাব্দীর এক-চতুর্থাংশ ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গিয়েছে এবং আগামী এক-চতুর্থাংশ সময় ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখন থেমে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই এবং দেশের উন্নয়নের গতি কমানো যাবে না বলে জোর দেন তিনি।
২০৪৭ সালের লক্ষ্যে পৌঁছতে ভারতের কর্মসংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা, সম্মিলিত চিন্তাভাবনার পরিসর বাড়ানো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের প্রভাব ও মর্যাদা ক্রমশ বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন মোদি। বিশ্বের কাছে ভারত এখন একটি ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য ও সম্মানিত দেশ হিসেবে উঠে আসছে বলে দাবি করেন তিনি।
দেশের স্থিতিশীল রাজনৈতিক ম্যান্ডেট, স্থিতিশীল সরকার, প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা এবং সংবিধান ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভারতের এই অন্তর্নিহিত শক্তিগুলিকে এখন গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালের পর থেকে বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ এবং বাণিজ্য অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত হয়েছে।
এই চুক্তিগুলিকে ভারতের সামনে বড় সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমইগুলিকে এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান মোদি। তিনি বলেন, এই ‘সোনালি সুযোগ’ কোনওভাবেই হাতছাড়া করা উচিত নয়।
উপকূলবর্তী রাজ্য এবং মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জন্যও এই বাণিজ্য চুক্তিগুলির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। কেরল থেকে গুজরাত এবং তামিলনাড়ু থেকে বাংলা—দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের চিংড়ি ও সামুদ্রিক খাদ্য রফতানির ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববাজারে ভারতের সামুদ্রিক খাদ্য শিল্পের উপস্থিতি আরও বাড়াতে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
–আইএনএস

















