নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট (আইএএনএস): আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের প্রভাব ও মর্যাদা ক্রমশ বাড়ছে এবং বিশ্বে ভারত এখন ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য ও সম্মানিত দেশ হিসেবে উঠে আসছে বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি দেশের গণতন্ত্র, সংবিধান, বিচারব্যবস্থা এবং স্থিতিশীল সরকারের শক্তির কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের স্থিতিশীল রাজনৈতিক ম্যান্ডেট, স্থিতিশীল সরকার, প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা এবং সংবিধান দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। বিশ্বের দেশগুলি এখন ভারতের এই অন্তর্নিহিত শক্তিগুলিকে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দিতে শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন মোদি। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালের পর থেকে বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বাণিজ্য অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত হয়েছে।
এই চুক্তিগুলিকে ভারতের সামনে একটি বড় সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমইগুলিকে এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। এই ‘সোনালি সুযোগ’ কোনওভাবেই হাতছাড়া করা উচিত নয় বলে সতর্ক করেন তিনি।
দেশের উপকূলবর্তী রাজ্য এবং মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জন্যও বাণিজ্য চুক্তিগুলির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। কেরল থেকে গুজরাত এবং তামিলনাড়ু থেকে বাংলা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের চিংড়ি রফতানির ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের সামুদ্রিক খাদ্য শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার আরও সম্প্রসারিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মোদি। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য প্রসঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে দেশবাসী যে সক্ষমতা ও সাফল্য দেখিয়েছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই এই স্বপ্ন তৈরি হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দেশের উন্নয়নের গতি বজায় রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে পৌঁছতে কর্মসংস্কৃতিতে পরিবর্তন, সম্মিলিত চিন্তাভাবনার পরিসর বৃদ্ধি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন।
–আইএনএস


















