নয়াদিল্লি, ২৩ জুন (আইএএনএস): ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তরুণ সিভিল সার্ভেন্টদের অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার তিনি ২০২৪ ব্যাচের ১৮৩ জন আইএএস অফিসার প্রশিক্ষণার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং দেশগঠনের কাজে নিষ্ঠা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও জনকেন্দ্রিক প্রশাসনের উপর জোর দেন।
‘সেবা তীর্থ’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক শিক্ষার দুই বছর পর এই তরুণ কর্মকর্তারা এমন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁদের সিদ্ধান্ত কোটি কোটি মানুষের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে।
তিনি বলেন, প্রকৃত জনসেবার পরীক্ষা শুরু হয় বাস্তব জীবনের পরিস্থিতিকে সততা, সংবেদনশীলতা এবং দায়বদ্ধতার সঙ্গে মোকাবিলা করার মধ্য দিয়ে।
প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনিক কাজের মানবিক দিকটির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি ফাইলের পিছনে রয়েছে অসংখ্য নাগরিকের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সমস্যা ও জীবনযাত্রার বাস্তবতা।” ‘নাগরিক দেবো ভব’ মন্ত্রকে সামনে রেখে কর্মকর্তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে নাগরিকদের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ডেটা-ভিত্তিক প্রশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পদমর্যাদা নয়, বাস্তব ফলাফলই একজন প্রশাসকের সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি। তিনি কর্মকর্তাদের নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করতে বলেন যে তাঁদের নীতি ও উদ্যোগ বাস্তব ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তথ্য বা ডেটাকে কেবল সংখ্যা হিসেবে দেখলে চলবে না; এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন, চ্যালেঞ্জ এবং আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তাই নীতিনির্ধারণের ফলাফল মাটির স্তরে কতটা পৌঁছচ্ছে, তা নিয়মিত যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।
‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েক দশকে নেওয়া প্রতিটি নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি উন্নত ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলা। তিনি ‘আত্মনির্ভর ভারত’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, উৎপাদন বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকে দেশের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। প্রক্রিয়াভিত্তিক প্রশাসন থেকে ফলাফলভিত্তিক প্রশাসনের দিকে দেশ এগিয়েছে। ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সরকারি পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ ও সহজলভ্য করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বড় উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জগুলির সমাধান এককভাবে সম্ভব নয়। বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ‘হোল-অব-গভর্নমেন্ট’ পদ্ধতিতে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশগঠনে নারীদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান আইএএস ব্যাচের ৪০ শতাংশেরও বেশি সদস্য মহিলা কর্মকর্তা, যা প্রশাসনে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পি. কে. মিশ্র, প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় প্রধান সচিব শক্তিকান্ত দাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব টি. ভি. সোমনাথন-সহ একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা।



















