নয়াদিল্লি, ২৩ জুন (আইএএনএস): পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এ চলমান অশান্তির জন্য ভারতকে দায়ী করে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর করা অভিযোগকে মঙ্গলবার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে খারিজ করে দিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (এমইএ)। একইসঙ্গে ইসলামাবাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে ভারত।
নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যর্থতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আড়াল করার মরিয়া প্রচেষ্টা। আমরা এই মনগড়া অভিযোগকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।”
তিনি আরও বলেন, পিওকে-তে চলমান বিক্ষোভ পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক শোষণ, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চনা এবং প্রশাসনিক নিপীড়নেরই ফল। “যে অঞ্চল পাকিস্তান বেআইনিভাবে এবং জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে, সেখানে মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে,” মন্তব্য জয়সওয়ালের।
ভারত অভিযোগ করেছে যে, পিওকে-তে বিক্ষোভ দমনে পাকিস্তান প্রশাসন চরম পুলিশি বর্বরতার আশ্রয় নিয়েছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে বাধা, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি।
জয়সওয়াল বলেন, “এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা আশা করি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তানের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অন্যায় কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে জবাবদিহির আওতায় আনবে।”
এর আগে ৯ জুনও ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভুয়ো খবর ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রচারের অভিযোগ তুলেছিল। তখনও বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল যে, পিওকে-তে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দমনমূলক পদক্ষেপ থেকে নজর ঘোরাতেই এই ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, পিওকে-র রাওয়ালাকোট শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ৯ জুনের নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে পাকিস্তান প্রশাসন ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-কে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করে। এর পরেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এদিকে, একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন, সমাজকর্মী এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী কাশ্মীরি প্রবাসীরা পিওকে-তে সাধারণ নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক নজরদারির দাবি তুলেছেন তারা।



















