আগরতলা, ২৩ জুন: রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মান আরও উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। এবার থেকে জিবি পন্ত হাসপাতাল ও আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ (এজিএমসি)-এর চিকিৎসকরা আর কোনও ধরনের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখতে পারবেন না। এর পরিবর্তে তাঁদের বেতনে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
ক্যাবিনেট বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য দেন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র জিবিপি হাসপাতাল ও এজিএমসি-র চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। রাজ্যের অন্যান্য জেলা ও মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপর এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না। তবে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করবে সরকার।
মন্ত্রী বলেন, “জিবিপি হাসপাতাল রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতাল। এই হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবার গুণগতমান বজায় রাখা এবং রোগীদের আরও উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের পরিবর্তে তাঁদের বেতনে ২০ শতাংশ বিশেষ বৃদ্ধি করা হবে।”
তিনি আরও জানান, অতীতেও একাধিকবার এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ক্যাবিনেট বৈঠকে স্বাস্থ্য সচিব পুনরায় বিষয়টি উত্থাপন করলে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যদি কোনও চিকিৎসক এই সিদ্ধান্ত মানতে না চান, তবে তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার স্বাধীনতা রাখেন। কিন্তু জিবিপি হাসপাতাল ও এজিএমসি-র অধীনে কর্মরত চিকিৎসকদের আর প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার সুযোগ থাকবে না।”
রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই জিবিপি হাসপাতালের পরিকাঠামো ও চিকিৎসা পরিষেবার উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসায় গাফিলতি এবং হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ সামনে এসেছে। এছাড়াও, সম্প্রতি রাজ্য সফরে আসা অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এর প্রতিনিধি দলও চিকিৎসা পরিষেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এ ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছিল বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “দিল্লির এইমস-সহ দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য একই ধরনের নীতি কার্যকর রয়েছে। এর ফলে চিকিৎসকরা হাসপাতালের রোগীদের জন্য আরও বেশি সময় দিতে পারবেন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও কার্যকর ও মসৃণ হবে।” জানা গেছে, প্রায় ৩৫০ জন চিকিৎসক এই নতুন নীতির আওতায় আসবেন। খুব শীঘ্রই এই ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
অন্যদিকে, একই ক্যাবিনেট বৈঠকে জেআরবিটি -এর মাধ্যমে ১৮৬ জন জুনিয়র মাল্টি টাস্কিং স্টাফ (এমটিএস) নিয়োগের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মী সংকট দূর করতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে সরকার। স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



















