ওয়াশিংটন, ২১ জুন (আইএএনএস): ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যাত্রার আগে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই আলোচনা তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত অচলাবস্থা কাটাতে এবং লেবাননের নাজুক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে ইতিবাচক অগ্রগতি আনবে।
ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স জানান, তার জানা মতে ইরানের আলোচকরা ইতোমধ্যেই সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন এবং কয়েকদিন ধরে এই আলোচনা চলবে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করছি পরমাণু ইস্যুতে অগ্রগতি হবে এবং লেবাননের যুদ্ধবিরতি প্রশ্নেও ইতিবাচক ফল মিলবে। এই দুটি বিষয়ই আমাদের আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। তবে ইরানের পক্ষ থেকেও আলোচনার জন্য কিছু বিষয় উত্থাপিত হতে পারে।
ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সফরে রয়েছেন সেকেন্ড লেডি ঊষা ভ্যান্স। তাঁরা স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে একটি গালফস্ট্রিম সি-৩৭ বিমানে যাত্রা করেন। সাধারণত ভাইস প্রেসিডেন্টের ব্যবহৃত বিমানের পরিবর্তে এই বিমান ব্যবহারের কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, এটি দ্রুত উপলব্ধ ছিল।
সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন শহরের নিকটবর্তী এলাকায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভ্যান্স জানান, বিভিন্ন পক্ষের কারিগরি পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যেই সেখানে অবস্থান করছেন।
তিনি বলেন, আগামী কয়েকদিন আমরা আলোচনা চালিয়ে যাব, যাতে সঠিকভাবে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা করা যায়। আলোচনার জন্য অনেক বিষয় রয়েছে, তবে আমরা সবকিছু নিয়েই এগোব।
ভ্যান্স জানান, তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি করা। তিনি বলেন, প্রথম কাজ হলো আলোচনার উপযুক্ত পরিবেশ ও কাঠামো গড়ে তোলা। আমি সেখানে এক বা দুই দিনের বেশি থাকতে পারব না, তাই শুরুটা সঠিকভাবে হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লেবাননের চলমান সংঘাতও গুরুত্ব পায়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ-এর মধ্যে সংঘর্ষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
তবে পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, সংবাদ শিরোনামগুলো দেখে যা মনে হয়, বাস্তবে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকেই যাচ্ছে এবং সহিংসতার মাত্রাও কিছুটা কমেছে।
তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং কূটনৈতিক দলের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা কঠিন হলেও সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
ভ্যান্স বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো ইসরায়েল ও লেবানন উভয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বৃহত্তর অর্থে পুরো অঞ্চলকে নিরাপদ ও স্থিতিশীল করাই এই প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য।
সহিংসতার চক্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এক পক্ষ গুলি চালায়, অন্য পক্ষ পাল্টা জবাব দেয়। ফলে কে আগে শুরু করল, সেই বিতর্কেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে হলে অন্তত কিছু সময়ের জন্য গোলাগুলি বন্ধ রাখতে হবে। আমরা সেটিই নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।
সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি লেবাননের যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।



















