নয়াদিল্লি/মুম্বই/লেহ, ২১ জুন (আইএএনএস): ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগের গুরুত্ব তুলে ধরলেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা। তাঁরা একবাক্যে বলেন, যোগ শুধু শরীরচর্চা নয়, বরং সুস্থ জীবন, মানসিক প্রশান্তি এবং সক্রিয় বার্ধক্যের অন্যতম ভিত্তি।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস মুম্বইয়ের জুহু বিচে আয়োজিত যোগ দিবস অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে জীবনযাত্রাজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এসব রোগ প্রতিরোধে যোগ একটি কার্যকর মহৌষধ।
তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি নিয়মিত যোগাভ্যাস করেন, তিনি যেকোনও মানসিক পরিস্থিতিতেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হন।” যোগকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি শরীর সুস্থ ও মন প্রফুল্ল রাখতে নিয়মিত যোগচর্চার পরামর্শ দেন।
এদিকে, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সুপ্রিম কোর্টে আয়োজিত যোগ দিবস অনুষ্ঠানে বলেন, ব্যস্ত কর্মজীবন ও মানসিক চাপের মধ্যে যোগ মানুষকে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
তিনি বলেন, “যোগ মন, শরীর ও আত্মার মধ্যে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার একটি চিরন্তন পদ্ধতি। মাত্র কয়েক মিনিটের সচেতন শ্বাস-প্রশ্বাস বা সাধারণ স্ট্রেচিংও মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, বছরে একদিন যোগাভ্যাস করলেই হবে না; এর প্রকৃত সুফল পেতে হলে নিয়মিত অনুশীলন প্রয়োজন।
লাদাখের লেহ-তে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণন যোগকে “মানবজাতির প্রতি ভারতের প্রাচীন উপহার” বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, “যোগ কেবল শারীরিক ব্যায়াম নয়, এটি এমন একটি সামগ্রিক পদ্ধতি যা শরীরকে সুস্থ রাখে, মনকে শান্ত করে এবং আত্মিক উন্নয়ন ঘটায়।”
‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’ প্রতিপাদ্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ প্রবীণ নাগরিক হবেন। তাই দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা আসোলা-ভাটি ব্লু লেক এলাকায় শত শত মানুষের সঙ্গে যোগাভ্যাস করেন। তিনি বলেন, “দিল্লিকে সুস্থ, সক্রিয় ও চাপমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র উদ্যোগে যোগ আজ বিশ্বব্যাপী গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কেন্দ্রীয় রেল, তথ্য ও সম্প্রচার এবং ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজস্থানে আয়োজিত গণ-যোগাভ্যাসে অংশ নিয়ে বলেন, “যোগ ভারতের অমূল্য ঐতিহ্য, যা আজ গোটা বিশ্ব গ্রহণ করেছে।”
তিনি বলেন, নিয়মিত যোগচর্চা মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ, মানসিকভাবে দৃঢ় এবং ইতিবাচক থাকতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, গুজরাট বিজেপির সভাপতি জগদীশ বিশ্বকর্মা আহমেদাবাদের সবরমতি রিভারফ্রন্ট-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রচেষ্টাতেই যোগ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে।
তিনি বলেন, “যোগ শুধুমাত্র শরীরচর্চা নয়, এটি এমন এক জীবনদর্শন যা শরীর, মন ও আত্মার মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি করে।”
এদিকে, নীতি আয়োগ-ও ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক কুমার লাহিড়ী-সহ অন্যান্য সদস্য ও আধিকারিকরা।
তাঁরা বলেন, যোগ মানুষের শারীরিক, মানসিক ও আবেগগত সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জীবনীশক্তি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে জাতিসংঘে ভারতের প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগব্যায়াম’ সব বয়সের মানুষের জন্য যোগের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
_______



















