আগরতলা, ১৩ জুন: ত্রিপুরার প্রবীণ বামপন্থী নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং কুর্তি বিধানসভা কেন্দ্রের আটবারের বিধায়ক ফৈজুর রহমান শনিবার ভোররাতে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৫ বছর। তাঁর প্রয়াণে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত প্রায় ১টা ১০ মিনিটে উত্তর ত্রিপুরার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক নেতা, কর্মী-সমর্থক এবং বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়।
ফৈজুর রহমান ছিলেন সিপিআই(এম)-এর অন্যতম প্রবীণ নেতা এবং কুর্তি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে টানা আটবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। শ্রমিক কল্যাণ, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আজও স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
সাধারণ জীবনযাপন, মাটির মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং আদর্শনিষ্ঠ রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য তিনি দলীয় গণ্ডি পেরিয়ে সকলের শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন। কয়েক দশক ধরে উত্তর ত্রিপুরার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।
বিগত কয়েক মাস ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে দলীয় মহলেও উদ্বেগ ছিল। সম্প্রতি সিপিআই(এম)-এর শীর্ষ নেতারা তাঁর বাসভবনে গিয়ে স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছিলেন এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছিলেন।
তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সামাজিক সংগঠন এবং বিশিষ্টজনেরা। সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী এক শোকবার্তায় বলেন, ফৈজুর রহমানের মৃত্যু শুধু দলের নয়, সমগ্র ত্রিপুরাবাসীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করা ফৈজুর রহমান জীবনের অধিকাংশ সময় জনসেবা ও রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ বিধায়ক জীবন এবং মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি ত্রিপুরার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁর শেষকৃত্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেবেন।
ফৈজুর রহমানের প্রয়াণের মধ্য দিয়ে ত্রিপুরার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল। জনমানুষের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা, সরল জীবনযাপন এবং গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনে দীর্ঘ অবদান আগামী দিনেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

















