আগরতলা, ১২ জুন: প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক ও বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে বিজেপি ও তিপরা মথার মধ্যে যে মতপার্থক্যের ছবি তুলে ধরা হচ্ছে, তা আসলে জনগণের সামনে একটি নির্দিষ্ট ধারণা তৈরির কৌশল।
বিরোধী দলনেতা বলেন, সম্প্রতি প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ মন্তব্য করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ত্রিপুরার আদিবাসীদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক। প্রদ্যোতের অবস্থান পরস্পরবিরোধী বলে মনে হচ্ছে।
তাঁর অভিযোগ, প্রদ্যোত একদিকে রাজ্যে ত্রিপুরা টিটিএএডিসি এবং ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত এলাকাগুলির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন, অন্যদিকে দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। “ত্রিপুরায় এক অবস্থান, দিল্লিতে আরেক অবস্থান—শুরু থেকেই এটাই তাঁর রাজনৈতিক কৌশল।
তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি ও তিপরা মথার মধ্যে প্রকাশ্যে যে বিরোধের চিত্র তুলে ধরা হয়, তা প্রকৃত নয়। জনগণের সামনে রাজনৈতিক সংঘাতের একটি আবহ তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আদিবাসী কল্যাণ প্রসঙ্গে প্রদ্যোতের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ছাড়া অন্য কোনও রাজনৈতিক দল আদিবাসীদের জন্য কাজ করেনি—এ ধরনের দাবি বাস্তবসম্মত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার এখনও বনাধিকার আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। একই সঙ্গে ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত এলাকাগুলিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ১২৫তম সংবিধান সংশোধনী বিলও এগোয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া এবং পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে যে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে, তার জন্যও সরকারকেই দায়ী করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, সময়মতো সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এই অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। অতীতের বামফ্রন্ট সরকার আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের দাবিদাওয়া আলোচনার মাধ্যমে এবং পুনর্বাসন প্যাকেজের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের পুনর্নিয়োগের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। বিশেষ পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের কাজে লাগানো হলেও দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের বহাল রাখা নিয়ে অধিক স্বচ্ছতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে ১০০ দিনের কাজের শ্রমিক, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, নির্মাণ শ্রমিক এবং বিভিন্ন সামাজিক ভাতা প্রকল্পের উপভোক্তাদের পাওনা অর্থ প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আইনি জটিলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধী দলনেতা। ২০০৯ সালের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মরত শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টেট উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, অনেক শিক্ষক অবসরের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন এবং রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১২ হাজার শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। বহু বিদ্যালয় মাত্র একজন শিক্ষক নিয়ে চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করার পাশাপাশি কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজন হলে রিভিউ পিটিশন দাখিলের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানান বিরোধী দলনেতা।



















