কলকাতা, ১৩ জুন (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের বহু কোটি টাকার নগদ-চাকরি (ক্যাশ-ফর-মিউনিসিপ্যালিটি জবস) দুর্নীতি মামলার তদন্তে শনিবার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মদন মিত্রের দুই বাসভবন-সহ কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার একাধিক স্থানে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
সূত্রের খবর, মদন মিত্রের দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর এবং উত্তর শহরতলির কামারহাটির বাসভবনে ইডির পৃথক দল কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) নিরাপত্তায় তল্লাশি চালায়। মদন মিত্র কামারহাটি কেন্দ্রের তিনবারের তৃণমূল বিধায়ক। তিনি ২০১১-২০১৬ মেয়াদে এবং পরে ২০২১ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ওই কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোট সাতটি স্থানে এই তল্লাশি অভিযান চলছে। কামারহাটি পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের সূত্র ধরেই মদন মিত্রের বাড়িতে এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার রাতে কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা-র পদত্যাগ প্রসঙ্গে সরব হন মদন মিত্র। তিনি অভিযোগ করেন, গোপাল সাহাকে ‘অপমানজনক আচরণ’ ও প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়ে পদত্যাগ করতে হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কামারহাটি পুরসভার সমস্ত তৃণমূল কাউন্সিলরদের পদত্যাগের আহ্বান জানান।
মদন মিত্র বলেন, “কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহার কাছে পদত্যাগ করা ছাড়া আর কোনও পথ খোলা ছিল না। বিজেপির অপমানের জবাব হবে পদত্যাগ। আগামী নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ডে তৃণমূলকে জয়ী করে আবার কামারহাটি পুরসভায় তৃণমূলের পতাকা ওড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”
উল্লেখ্য, গত মাসে পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন অগ্নিনির্বাপণমন্ত্রী সুজিত বসু। বর্তমানে তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। দক্ষিণ দমদম পুরসভা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োগে অনিয়ম এবং অর্থপাচারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে ইডির দায়ের করা এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট (ইসিআইআর) বাতিলের আবেদন করেছিলেন সুজিত বসু। তবে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে তাঁকে জামিনের আবেদন করার পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে মামলার দ্রুত শুনানির আবেদনও নাকচ করে আদালত।



















