নয়াদিল্লি, ১২ জুন : তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) সংসদীয় দলে বিদ্রোহের জেরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক সংকট এবার দলভাঙনের দিকে এগোচ্ছে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিদ্রোহী সাংসদদের একটি গোষ্ঠী আগামী সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাতে চলেছে।
সূত্রের খবর, বিদ্রোহী শিবিরের দাবি অনুযায়ী ১৯ জন টিএমসি সাংসদের সমর্থন ও স্বাক্ষর-সম্বলিত একটি চিঠি স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। ওই চিঠিতে পৃথক তৃণমূল সংসদীয় গোষ্ঠী গঠনের প্রস্তাব এবং দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণও উল্লেখ করা হয়েছে।
টিএমসি সাংসদ জগদীশ ভর্মা বাসুনিয়া আইএএনএস-কে জানান, ১৫ জুন (সোমবার) তারা স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠীর স্বীকৃতি দাবি করবেন।
তিনি বলেন, চিঠিতে ১৯ জন টিএমসি সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে। আমরা নিজেদের পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী গঠন করতে চাই এবং দল থেকে আলাদা হওয়ার কারণও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের দাবি, আমরাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস এবং সেই স্বীকৃতি আমাদের দেওয়া উচিত।
কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অন্যতম মুখ। এই গোষ্ঠী লোকসভায় পৃথক সংসদীয় দল গঠনের পাশাপাশি এনডিএ-কে সমর্থন করার পক্ষেও সওয়াল করছে।
তিনি আরও দাবি করেন, দলত্যাগের প্রশ্নে সব বিদ্রোহী সাংসদের মত এক এবং পরবর্তীতে কেউ অবস্থান বদলাবেন না।
এর আগে টিএমসি সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার যিনি বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম নেতৃত্বে রয়েছেন, দাবি করেছিলেন যে লোকসভায় দলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন পৃথক ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চান এবং এনডিএ-র সঙ্গে হাত মেলানোর পক্ষপাতী।
এদিকে, চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে রবিবার জাতীয় রাজধানীতে বিদ্রোহী সাংসদদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সূত্রের দাবি, ওই বৈঠকে সব বিদ্রোহী সাংসদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
























