নয়াদিল্লি, ৮ জুন (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) সরকার মঙ্গলবার টানা ১২ বছরের শাসনের মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে। তৃতীয় দফার সরকারে এক বছর পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে কল্যাণমূলক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে সামনে রেখে এই সাফল্য উদযাপন করছে কেন্দ্র।
সোমবার ‘এক্স’-এ করা এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গত ১২ বছরে ভারত বহু পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের কল্যাণ। অন্ত্যোদয়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি উন্নয়নের সুফল যাতে দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছায়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জনধন অ্যাকাউন্ট, ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি), স্বচ্ছ ভারত অভিযান, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন, আয়ুষ্মান ভারত-সহ একাধিক প্রকল্প মানুষের মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে।
২০১৪ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মোদি সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং সরকারি সুবিধা সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা। বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডা গত বছর মন্তব্য করেছিলেন যে, মোদি সরকার ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আশাবাদ, সুশাসন ও নাগরিক কল্যাণের নতুন ধারায় নিয়ে গিয়েছে।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৫৪৩ সদস্যের সংসদে এনডিএ ২৯৩টি আসন পায়। জোটের প্রধান শরিক বিজেপি একাই জেতে ২৪০টি আসন। এই ফলাফলকে স্থিতিশীল শাসন ও দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতি জনসমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়।
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে কেন্দ্রের দাবি। কোভিড-পরবর্তী ধাক্কা কাটিয়ে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়েছে।
মোদি সরকারের তৃতীয় মেয়াদে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ভারতের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। পাশাপাশি আসিয়ান, বিমস্টেক এবং ব্রিকসের মতো আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণ ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের ভূমিকা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিও এই সময়কালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, ২০১৯ সালের বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক এবং ২০২৫ সালের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো পদক্ষেপের উল্লেখ করে কেন্দ্র দাবি করেছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) চালুর মাধ্যমে দেশের পরোক্ষ কর ব্যবস্থাকে একীভূত করা হয়। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কর কাঠামো সহজ হয়েছে বলে সরকারের দাবি।
প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনার মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষকে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। এর ভিত্তিতেই ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ সম্ভব হয়েছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় ব্রডব্যান্ড সংযোগ, ই-গভর্ন্যান্স এবং কাগজবিহীন পরিষেবার প্রসার ঘটেছে।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনা এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে কেন্দ্রের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর পোস্টে বলেন, “প্রযুক্তির ব্যবহার দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ডিবিটি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে সরাসরি মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছেছে। এতে অপচয় কমেছে, দক্ষতা বেড়েছে এবং প্রশাসনের উপর মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে।”
নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, ‘মিশন শক্তি’, ‘প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা’ এবং ‘উজ্জ্বলা যোজনা’র মতো প্রকল্পগুলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও বলা হয়েছে।
যুব সমাজের জন্য রোজগার মেলা কর্মসূচি এবং কৃষকদের জন্য পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি, প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা ও কৃষি অবকাঠামো তহবিলের মতো প্রকল্পগুলিকেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস’ স্লোগানকে মোদি সরকারের প্রশাসনিক দর্শনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে কেন্দ্র দাবি করেছে, উন্নয়নের মূলস্রোত থেকে কোনও ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে পিছনে ফেলে রাখা হবে না। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যপূরণে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নই সরকারের মূল অঙ্গীকার।
সরকারের দাবি, ১২ বছর পূর্তির এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে এনডিএ সরকার স্থিতিশীল, আত্মবিশ্বাসী এবং উন্নয়নমুখী প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
— আইএএনএস
























