ইম্ফল, ২৩ জুলাই: জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক ও শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ার ফলে মণিপুরের বিদ্যুৎ খাত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং।
বৃহস্পতিবার মণিপুর বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনের প্রথম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আধুনিক সমাজ ও রাজ্যের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাহকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিষেবার ওপর চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে বিদ্যুৎ খাতকে আরও শক্তিশালী ও দক্ষ করে তোলার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশন দূরদর্শী উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তাঁর বিশ্বাস। এই লক্ষ্যে কমিশনের সব ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে রাজ্য সরকার পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যপাল অজয় কুমার ভল্লা বলেন, বিদ্যুৎ খাতে সংস্কারের ফলে এটি বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। তবে একই সঙ্গে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও জরুরি।
তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ মণিপুরের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণেও আধুনিক, স্থিতিশীল ও গ্রাহক-কেন্দ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিদ্যুৎ পরিষেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অবদানেরও প্রশংসা করেন রাজ্যপাল।
উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ আইন, ২০০৩-এর আওতায় গঠিত মণিপুর বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশন রাজ্যে বিদ্যুতের শুল্ক নির্ধারণ, বিদ্যুৎ সংস্থাগুলিকে লাইসেন্স প্রদান, বিদ্যুৎ ক্রয় ও বণ্টন তদারকি, নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করে।



















