রাষ্ট্রসংঘ, ৬ জুন (আইএএনএস): গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র-এর পূর্বাঞ্চলে নতুন করে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং ইবোলা মোকাবিলার প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ।
রাষ্ট্রসংঘের অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স শুক্রবার জানিয়েছে, উত্তর কিভু এবং দক্ষিণ কিভু প্রদেশে ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
ওসিএইচএ-র তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কিভুর বেনি অঞ্চলে মঙ্গলবার রাতে সশস্ত্র হামলায় অন্তত ২৪ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হন। এই ঘটনার জেরে নতুন করে বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
পাশাপাশি, মাসিসি অঞ্চলে বুধবার তীব্র সংঘর্ষের কারণে আরও বহু বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। মে মাস পর্যন্ত এই অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজারে পৌঁছেছে।
ওসিএইচএ জানিয়েছে, নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় একাধিক এলাকায় মানবিক সংস্থাগুলিকে তাদের চলাচল সীমিত করতে হয়েছে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ কিভুর ফিজি এবং মুয়েঙ্গা অঞ্চলে বুধবার সংঘর্ষের সময় ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এর ফলেও নতুন করে বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। গত দুই বছরে নিরাপত্তাহীনতার কারণে এই এলাকাগুলিতে ১ লক্ষ ৬৫ হাজারেরও বেশি মানুষ নিয়মিত ত্রাণ ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
রাষ্ট্রসংঘ সতর্ক করেছে যে, উত্তর ও দক্ষিণ কিভুতে চলমান সহিংসতা ইবোলা মোকাবিলার কাজ এবং অন্যান্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে গুরুতরভাবে ব্যাহত করতে পারে।
রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস-এর মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, উত্তর ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশে ইতিমধ্যেই ইবোলার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা সংকট ও মহামারির দ্বৈত চ্যালেঞ্জ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলছে।
তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জীবনরক্ষাকারী সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ওসিএইচএ। এপ্রিল মাস থেকে বেনি অঞ্চলে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘ সব পক্ষের প্রতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন মেনে চলার এবং ত্রাণকর্মীদের জন্য নিরাপদ, অবাধ ও দীর্ঘস্থায়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
























