নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এর পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ সমাবেশে সরব হলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি বিকেল ৫টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, তা না হলে আগামী এক সপ্তাহ দেশজুড়ে আন্দোলন চলবে এবং পরের শনিবার আবারও জন্তর মন্তরে বৃহত্তর সমাবেশ করা হবে।
সকাল থেকেই জন্তর মন্তরে ধীরে ধীরে জমতে শুরু করে বিক্ষোভকারীদের ভিড়। সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস উপস্থিত থাকলেও দীর্ঘক্ষণ পৌঁছাতে পারেননি অভিজিৎ দীপক। এক পর্যায়ে সৌরভ দাস পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ করেন যে দীপকের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়েছে। যদিও পুলিশ সেই অভিযোগ অস্বীকার করে।
প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ দীপক জন্তর মন্তরে পৌঁছালে উপস্থিত কয়েকশো সমর্থক উচ্ছ্বাসে তাঁকে স্বাগত জানান। পরে তিনি জনতা দল কার্যালয়ের সামনে উঁচু ফুটপাথে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না হলে আন্দোলন দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
এরপর তিনি গত এক দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, “গত ১০-১২ বছর ধরে দেশকে হিন্দু-মুসলিম রাজনীতির মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে। এতে কি কারও চাকরি হয়েছে? এর থেকে লাভবান হয়েছে কারা? আমি এই আন্দোলনের জন্য নিজের স্বাধীনতাও ত্যাগ করতে প্রস্তুত।”
সিজেপি-র এক্স অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে দীপক অভিযোগ করেন, আন্দোলনকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, “এই দেশের যুবক ও ছাত্রসমাজ এখনও নিজেদের বিক্রি করে দেয়নি। আন্দোলনকে থামানোর চেষ্টা হয়েছে। আমাদের পোস্ট মুছে দিতে পারেন, কিন্তু আমাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে পারবেন না।”
বক্তৃতার পর ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দো’, ‘ছাত্র ঐক্য জিন্দাবাদ’ এবং ‘যুব ঐক্য জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে জন্তর মন্তর।
সমাবেশ শেষে দীপক মঞ্চ থেকে নামতেই সমর্থকরা তাঁকে কাঁধে তুলে নেন। যদিও তিনি বারবার নিচে নামিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন দল নিজেদের মতো করে স্লোগান ও প্রতিবাদী গান পরিবেশন করতে থাকে।
একদল প্রতিবাদকারী গান গেয়ে সরকারের সমালোচনা করে, অন্যদিকে আরেকটি দল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান অব্যাহত রাখে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনগুলিতে প্রতিবাদ আরও জোরদার করা হবে।



















