কলকাতা, ৫ জুন (আইএএনএস) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কে বিতর্কিত ও উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে নতুন অভিযোগ দায়ের করেছে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন।
উল্লেখ্য, এর আগের দিনই দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় আইনজীবীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছিল।
শুক্রবার কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে দায়ের করা নতুন অভিযোগে সংগঠনটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত ২ জুন কলকাতার কেন্দ্রস্থলে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।
তার দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই মন্তব্য দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তিকেও আন্তর্জাতিক স্তরে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। এমনকি তাঁর মন্তব্যে রাষ্ট্রবিরোধী উপাদানও ছিল। তাই দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষার স্বার্থে আমরা কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ দায়ের করেছি।”
২ জুনের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, অন্য দেশে সংঘটিত কোনও হত্যাকাণ্ডের পেছনেও কারা জড়িত, সে বিষয়ে তাঁর ধারণা রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার বিষয়কে কেন্দ্র করে সেখানে প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে।
মমতার বক্তব্য অনুযায়ী, “বাংলাদেশ থেকে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করায় সেখানে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল। আমি অন্য দেশের বিষয়ে বলতে চাই না, কিন্তু এ ধরনের লোকেরা মেঘালয় হয়ে বাংলায় প্রবেশ করে। এরপর এসটিএফ তাদের গ্রেফতার করে। এই কথাই স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন।”
অভিযোগকারীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে যদি এ ধরনের কোনও তথ্য তাঁর কাছে থেকে থাকে, তাহলে তা সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে উত্থাপন করা উচিত ছিল। এখন প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেন এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারেন।
সংগঠনের মতে, এই ধরনের বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অযাচিত উত্তেজনা সৃষ্টি করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে।



















