কোচি, ৫ জুন (আইএএনএস) : কেরল হাইকোর্ট সিএমআরএল (কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড) সংক্রান্ত মামলায় ইডি-র তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করে দিল। তদন্ত বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত, ফলে সংস্থাটির বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তে নতুন গতি এল।
শুক্রবার বিচারপতি রাজা বিজয়রাঘবন ভি. এবং কে.ভি. জয়কুমার-এর ডিভিশন বেঞ্চ সিএমআরএলের করা আপিল খারিজ করে দেয়। এর আগে একক বেঞ্চও ইডির তদন্ত স্থগিত করার আবেদন নাকচ করেছিল।
আদালত সিএমআরএলের সেই যুক্তিও খারিজ করে দেয়, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে ইডি তদন্ত শুরু করার আগে ‘প্রেডিকেট’ বা নির্ধারিত অপরাধের মামলা নথিভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ফৌজদারি বিচারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত অপরাধের মামলা প্রয়োজন হলেও, সম্পত্তি সংযুক্তিকরণ বা অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর অধীনে অনুসন্ধানমূলক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে তা পূর্বশর্ত নয়।
একই সঙ্গে আদালত ইডির এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট (ইসিআইআর) বাতিলের আবেদনও খারিজ করে দেয়। আদালতের মতে, ইসিআইআর কোনও আইনসিদ্ধ বাধ্যতামূলক নথি নয় এবং এমন নথি না থাকলেও ইডি দেওয়ানি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
এই রায়কে ইডির জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর্থিক অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে সিএমআরএল দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছে।
মামলাটি রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই এসএফআইও-র তদন্তাধীন রয়েছে। কোম্পানির বিরুদ্ধে কোম্পানি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে, যা পিএমএলএ-র অধীনে নির্ধারিত অপরাধের তালিকাভুক্ত।
এর আগে একক বেঞ্চের নির্দেশের পর ইডি পিনারাই বিজয়ন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বাসভবনেও তল্লাশি চালিয়েছিল, যা মামলাটিকে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব এনে দেয়।
এদিকে, ইডির ডিরেক্টর রাহুল নবীন-এর কোচি সফর ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। প্রায় পাঁচ বছর পর কোনও ইডি প্রধানের এটি কেরল সফর। জানা গেছে, তিনি শীঘ্রই ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে অংশ নেবেন।
হাইকোর্টের রায়ের পর তদন্তের পরবর্তী ধাপ নিয়ে ইডি কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের। আগামী কয়েকদিন এই মামলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।



















