কোচি, ৫ জুন (আইএএনএস) : কেন্দ্রের কাছ থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব ঘাটতি অনুদান না পাওয়ায় চলতি অর্থবর্ষে কেরলের আর্থিক অবস্থায় প্রায় ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সাথীশন। একই সঙ্গে তিনি পূর্ববর্তী এলডিএফ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটের আর্থিক অনুমান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ করা এক পোস্টে সাথীশন বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য এলডিএফ সরকারের পেশ করা অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট ভুল আর্থিক অনুমানের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ওই বাজেটে কেন্দ্রের কাছ থেকে ১৪ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি অনুদান পাওয়ার হিসাব ধরা হয়েছিল। কিন্তু ষোড়শ অর্থ কমিশন কেরলকে এই খাতে কোনও অনুদান দেয়নি। ফলে রাজ্যের বাজেট অনুমান এবং প্রকৃত অর্থপ্রাপ্তির মধ্যে বড় ধরনের ফারাক তৈরি হয়েছে।
সাথীশন বলেন, “এলডিএফ সরকারের ২০২৬-২৭ সালের অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট ভুল ধারণার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। সেখানে ১৪ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি অনুদান পাওয়ার আশা করা হয়েছিল, অথচ অর্থ কমিশন এমন কোনও অনুদান মঞ্জুর করেনি। এর ফলে চলতি বছরে কেন্দ্রীয় বরাদ্দে প্রায় ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঘাটতির মুখে পড়তে পারে কেরল।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতি রাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে এবং সরকারি ব্যয় নির্বাহেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র পেশ করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাথীশন বলেন, এটি কোনও তদন্তমূলক প্রতিবেদন নয়, বরং রাজ্যের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা।
তাঁর কথায়, “রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানা উচিত। রাজ্যের আয় কত, ব্যয় কত এবং ভবিষ্যতের পথ কী, তা সবাইকে জানতে হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের আগে এই তথ্য জনগণের সামনে আনা জরুরি ছিল। শ্বেতপত্রে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন এবং রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে আর্থিক সংকট আড়াল করা সম্ভব নয়।
শ্বেতপত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত নতুন সরকার মোট ৪৮ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকার বকেয়া আর্থিক দায়ভার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।
এর মধ্যে সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বকেয়া বাবদ ২১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা, অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন বকেয়া ১৪ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা এবং বিল ডিসকাউন্টিং ব্যবস্থার আওতায় ব্যাঙ্ক ও ঠিকাদারদের পাওনা ৩ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা রয়েছে।
এছাড়াও স্বাস্থ্য প্রকল্পের দাবি, সাপ্লাইকোর বকেয়া, কেএমএসসিএল-এর অর্থপ্রদান, শিক্ষাবৃত্তি এবং স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলির কিস্তিসহ একাধিক খাতে বিপুল পরিমাণ বকেয়া দায় রয়েছে বলে শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেরলের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।



















