কলকাতা, ৫ জুন (আইএএনএস): বিধায়কদের স্বাক্ষর বিভ্রাট সংক্রান্ত মামলায় সিআইডির জারি করা তলবের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন একক বেঞ্চ।
গত ৩ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডির তলবকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। একইসঙ্গে তিনি গ্রেফতার-সহ যেকোনও ধরনের জোরপূর্বক পুলিশি পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁর আইনজীবী মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদনও জানান।
শুক্রবার বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের অবকাশকালীন একক বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য উঠলে আদালত দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে দেয়।
ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভার চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের মনোনয়ন সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবকে ঘিরে। অভিযোগ, ওই প্রস্তাবে থাকা কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরের সঙ্গে প্রকৃত স্বাক্ষরের অমিল পাওয়া গেছে।
প্রথমে সিআইডি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ জুন হাজিরার নির্দেশ দেয়। তবে তিনি ওইদিন উপস্থিত না হয়ে ১৫ দিনের সময় চান। তাঁর দাবি ছিল, গত ৩০ মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে জনতার আক্রমণের ঘটনায় তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
পরবর্তীতে ১ জুন সন্ধ্যায় সিআইডি দ্বিতীয় নোটিশ জারি করে তাঁকে আগামী ৮ জুন হাজির হতে নির্দেশ দেয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ৮ জুন দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
কয়েকদিন আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নবনিযুক্ত বিধানসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপ-দলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে তৃণমূল বিধায়ক দলের মুখ্য সচেতক হিসেবে মনোনয়নের প্রস্তাব দেন।
স্পিকার ওই চিঠির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের স্বাক্ষরযুক্ত প্রস্তাবপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে সেই নথি জমা পড়লেও তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা কয়েকটি স্বাক্ষরের অসঙ্গতির বিষয়টি স্পিকারের নজরে আনেন।
এরপর বিধানসভা সচিবালয় বিষয়টির তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেয়। তদন্তের অংশ হিসেবেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি এবং সিআইডির পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
























