অটোয়া, ৪ জুন (আইএএনএস): ভারত ও কানাডার মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে কানাডার প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করল ভারতের জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজ (এনডিসি)-র একটি প্রতিনিধিদল।
বর্তমানে এনডিসি-র ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঁচ দিনের সফরে কানাডায় রয়েছে। প্রতিনিধিদলে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর আধিকারিক, সিভিল সার্ভিসের সদস্য এবং পাঁচটি বন্ধুপ্রতিম বিদেশি দেশের কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
কানাডায় অবস্থিত ভারতের হাইকমিশন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জানায়, প্রতিনিধিদলটি কানাডার জাতীয় প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা-র কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও উন্নত করার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছে।
সফরকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কানাডার বিভিন্ন শিক্ষাবিদদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন এবং প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে যাবেন।
এর আগে গত মে মাসে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাংরি-লা সংলাপ-র ফাঁকে ভারত ও কানাডা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছিল।
সেই বৈঠকে ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং এবং কানাডার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ডেপুটি মিনিস্টার কেলভিন ব্রোসো অংশ নেন।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের জনসংযোগ শাখা জানিয়েছিল, দুই দেশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আরও গভীর অংশীদারিত্বের সুযোগ নিয়েও আলোচনা করেছে। উভয় দেশের কৌশলগত স্বার্থের ক্রমবর্ধমান মিলের প্রতিফলন এই আলোচনায় দেখা গিয়েছে বলে জানানো হয়।
এরও আগে, মার্চ মাসে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রীদের বৈঠক-এর ফাঁকে ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং কানাডার বিদেশমন্ত্রীর সংসদীয় সচিব রব অলিফ্যান্ট-এর সঙ্গে বৈঠক করেন।
সেই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
এছাড়া, গত বছরের নভেম্বরে নরেন্দ্র মোদী এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জি২০ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন-এর ফাঁকে বৈঠক করে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছিলেন।
সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা পর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকগুলি দুই দেশের সম্পর্কের নতুন গতি এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির আগ্রহের ইঙ্গিত বহন করছে বলে কূটনৈতিক মহলের মত।
_______



















