নয়াদিল্লি, ৪ জুন (আইএএনএস): গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও নিরাপদ, স্থিতিশীল ও টেকসই করতে ভারত ও ব্রিটেন বৃহস্পতিবার যৌথভাবে ইন্ডিয়া–ইউকে ক্রিটিক্যাল মিনারেলস গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন অবজারভেটরি (জিএসসিও)-র আনুষ্ঠানিক সূচনা করল।
এই উদ্যোগের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনি মন্ত্রী জি. কিষাণ রেড্ডি এবং ব্রিটেনের বিদেশ, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন বিষয়ক সচিব ইভেট কুপার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কিশন রেড্ডি বলেন, আধুনিক অর্থনীতি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদন শিল্প, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং কৌশলগত বিভিন্ন ক্ষেত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ অত্যন্ত অপরিহার্য। তাঁর মতে, এই অবজারভেটরি ভারতের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খল সম্পর্কিত তথ্যভাণ্ডারকে শক্তিশালী করবে এবং তথ্যনির্ভর নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে। পাশাপাশি এটি দেশের ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশন (এনসিএমএম)-এর লক্ষ্যপূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বহুমুখী ও স্থিতিশীল মূল্যশৃঙ্খল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
অন্যদিকে, ইভেট কুপার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে ভারত ও ব্রিটেনের সহযোগিতা উভয় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। তথ্য বিনিময় ও খনিজ সম্পদে সহজতর প্রবেশাধিকার দুই দেশেরই পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই অবজারভেটরি যৌথভাবে তৈরি করেছে টেক্সমিন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়। টেক্সমিন হল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রযুক্তি-ভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র, যা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইএসএম) ধানবাদ-এ অবস্থিত।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ভারত ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়। পরে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে একটি গবেষণা সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিক রূপ পায়।
অবজারভেটরির মূল লক্ষ্য হল বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নজরদারি করা, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সরবরাহ বিঘ্ন চিহ্নিত করা, বাজার-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা এবং নীতিনির্ধারক, শিল্পক্ষেত্র ও গবেষকদের জন্য তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা।
অনুষ্ঠানে ভারতের খনি মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক, ব্রিটিশ হাইকমিশন, শিল্প ও গবেষণা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও টেক্সমিন ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অবজারভেটরির একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রদর্শনীও উপস্থাপন করা হয়।


















