ইম্ফল, ৪ জুন (আইএএনএস): মণিপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় এক মাদক পাচারকারীর ছুরিকাঘাতে রাজ্য পুলিশের এক হাবিলদার নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পৃথক অভিযানে ছয় জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার থৌবাল জেলার কমান্ডো ইউনিট (সিডিও)-এর একটি দল মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুই সন্দেহভাজনকে আটক করে।
অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের একজন, ২৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ নাওবি ওরফে মাহিল, হঠাৎই মণিপুর রাইফেলস-এর চতুর্থ ব্যাটালিয়নের হাবিলদার সুরেশ সিংয়ের উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে থৌবাল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হামলার পর অভিযুক্ত নাওবি এবং অপর আটক ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে ব্যাপক তল্লাশি অভিযানের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার মূল অভিযুক্ত নাওবিকে গ্রেপ্তার করে থৌবাল জেলা পুলিশ। অপর অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
নিহত সুরেশ সিং থৌবাল জেলার পুলিশ কমান্ডো ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মণিপুর পুলিশ কমান্ডো ইউনিট বা সিডিও রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনী, যারা সন্ত্রাস দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে।
এদিকে, পৃথক অভিযানে চান্দেল এবং ইম্ফল পূর্ব জেলা থেকে ছয় জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা কাংলেই ইয়াওল কান্না লুপ (কেওয়াইকেএল), কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি (কেসিপি) এবং কাংলেইপাকের গণ বিপ্লবী পার্টি (প্রেপাক)-এর সদস্য।
এছাড়া, ইম্ফল পূর্ব জেলার ইরিলবুং এলাকার একটি কুঁড়েঘর থেকে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দুটি একে-সিরিজ রাইফেল, একটি সেলফ-লোডিং রাইফেল (এসএলআর), একটি ৯ মিমি কারবাইন, চারটি শক্তিশালী হ্যান্ড গ্রেনেড, দুটি একে রাইফেলের ম্যাগাজিন, একটি এসএলআর ম্যাগাজিন এবং বিভিন্ন ক্যালিবারের জীবন্ত গুলি।
রাজ্যে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ রুখতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান জোরদার করেছে। সীমান্তবর্তী, মিশ্র জনবসতিপূর্ণ এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নিয়মিত তল্লাশি ও এলাকা দখল অভিযান চালানো হচ্ছে।
বর্তমানে মণিপুরের পাহাড়ি ও উপত্যকা অঞ্চলে মোট ১১৪টি নাকা ও চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে, যাতে জঙ্গি, সমাজবিরোধী এবং সন্দেহভাজন যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
এছাড়া, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইম্ফল-জিরিবাম জাতীয় সড়ক (এনএইচ-৩৭)-এ প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহনকে নিরাপত্তা এসকর্ট দেওয়া হচ্ছে। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।
মণিপুর পুলিশ জনগণকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো ভিডিও বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকারও সতর্কবার্তা দিয়েছে।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যে কোনও সন্দেহজনক ভিডিও বা অডিও ক্লিপের সত্যতা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য ছড়ালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
_______



















