শিলং, ২৯ জুলাই (আইএএনএস): প্রস্তাবিত বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন (এফসিআরএ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে নীরব থাকার অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে মেঘালয়ের শাসকদল ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। দলের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তারা ইতিমধ্যেই একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কেন্দ্রের কাছে মেঘালয়ের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছে।
বুধবার এক বিবৃতিতে এনপিপি অভিযোগ করে, তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত খবরগুলি “বিভ্রান্তিকর” এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দলটির দাবি, রাজ্যের ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানগুলির স্বার্থ রক্ষায় তারা শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে।
এনপিপি জানায়, চলতি মাসের শুরুতে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী তথা দলের জাতীয় সভাপতি কনরাড কে. সাংমা-র নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বহু-সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সঙ্গে বৈঠক করে।
দলের এক শীর্ষ নেতার দাবি, ওই প্রতিনিধি দলে প্রেসবিটেরিয়ান চার্চ অফ ইন্ডিয়া, নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ক্রিশ্চিয়ান কাউন্সিল (এনইআইসিসি), শিলং ক্যাথলিক আর্চডায়োসিস এবং গারো ব্যাপটিস্ট কনভেনশন-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে প্রতিনিধি দলটি প্রস্তাবিত আইনের ধারা ১৬এ(৫)-সহ কয়েকটি বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের আশঙ্কা, এই সংশোধনীগুলি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এনপিপির দাবি, অমিত শাহ প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেছেন যে, প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
দলটি আরও জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা, উপ-মুখ্যমন্ত্রী প্রেস্টোন টিনসং এবং ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অফ ইন্ডিয়া (সিবিসিআই)-এর প্রতিনিধিদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু-র সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
সেই বৈঠকে প্রত্যন্ত ও জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় সমাজসেবামূলক সংস্থাগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয় এবং প্রস্তাবিত সংশোধনীর ফলে তাদের কার্যক্রম বা সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনও সমস্যা তৈরি হলে তা থেকে সুরক্ষার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে এনপিপি জানিয়েছে, তারা কেন্দ্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় বিশ্বাসী, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়। পাশাপাশি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।
এনপিপি স্পষ্ট জানিয়েছে, রাজ্যের নাগরিক ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলির অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে তারা ভবিষ্যতেও কেন্দ্রের কাছে বিষয়গুলি জোরালোভাবে তুলে ধরবে।
























