কলকাতা, ৪ জুন (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সম্পর্কে ‘উস্কানিমূলক মন্তব্য’ করার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানা গিয়েছে।
এক আইনজীবীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগের সূত্রপাত ২ জুন কলকাতার রানী রাসমণি রোডে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে। সেখানে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ।
আইনজীবী রিঙ্কি সেন চ্যাটার্জী অভিযোগে দাবি করেছেন, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ওসমান হাদি খুন হন। ওই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তরা মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাজ্যের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাদের গ্রেফতার করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২ জুনের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে ইঙ্গিত দেন যে, হত্যাকাণ্ডটি অন্য দেশে সংঘটিত হলেও এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা তিনি জানেন। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
রিঙ্কি সেন চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে বিষয়টি সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করতে পারতেন। কিন্তু এখন তিনি বাংলাদেশে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে সংঘটিত ‘পরিকল্পিত হত্যা’ বলে দাবি করছেন।
অভিযোগকারীর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাও এর ফলে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি দাবি করেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দায়িত্বে থাকাকালীন দেশের গোপনীয়তা রক্ষার শপথ নেওয়া সত্ত্বেও পদ ছাড়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উগ্রপন্থী শক্তিকে উসকানি দিচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, ২ জুনের ওই প্রতিবাদ সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “বাংলাদেশের এক অভিযুক্তকে এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল, যার জেরে সেখানে বড় প্রতিবাদ হয়েছিল। আমি অন্য কোনও দেশের প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। তবে বিষয়টি হল, এ ধরনের ব্যক্তিরা মেঘালয় হয়ে বাংলায় প্রবেশ করে। এখানে আসার পর এসটিএফ তাদের গ্রেফতার করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও এই কথা বলেছেন। আমি এতদিন এই বিষয়টি বলিনি, কিন্তু আজ বলছি।”
ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর দলের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



















