গান্ধীনগর, ৪ জুন (আইএএনএস): গুজরাটজুড়ে পরিচালিত ‘অপারেশন ডেল্টা হান্ট’-এর আওতায় বৃহস্পতিবার ৫০১ জন সন্দেহভাজন অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একযোগে পরিচালিত এই অভিযানে নথিপত্রবিহীন বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিতকরণ ও যাচাইয়ের কাজ চালানো হয়। প্রশাসনের দাবি, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বুধবার ভোর থেকে জেলা পুলিশ, ক্রাইম ব্রাঞ্চ, সাইবার সেল এবং বিশেষ অভিযানকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, শ্রমিক আবাসন এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত একাধিক স্থানে তল্লাশি চালান।
গুজরাটে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও নথিহীন বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে চলমান নিরাপত্তা ও অভিবাসন সংক্রান্ত নজরদারির অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, টেলিকম তথ্য বিশ্লেষণ, মানব গোয়েন্দা তথ্য এবং নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে।
এর আগে একই অভিযানের প্রাথমিক পর্যায়েও হাজার হাজার ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা হয়েছিল এবং তদন্তের পর কয়েকশো জনকে আটক করা হয়েছিল।
গুজরাটের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি জানিয়েছেন, এটি গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক একটি সমন্বিত অভিযান, যেখানে বিভিন্ন পুলিশ ইউনিট একযোগে কাজ করেছে।
তাঁর কথায়, “এই ধরনের অভিযানের লক্ষ্য হল নথিহীন বাসিন্দাদের চিহ্নিত করা এবং জাল নথি তৈরি, বাসস্থানের ব্যবস্থা বা কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাঁদের সহায়তা করার সম্ভাব্য চক্রগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখা।”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযানের আগের পর্যায়গুলিতে পরিচয়পত্রের বৈধতা যাচাইয়ের পাশাপাশি জাল বা প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা আধার কার্ড ব্যবহারের অভিযোগও তদন্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি এমন ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কগুলিকেও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে, যারা অবৈধভাবে বসবাসকারীদের সহায়তা করে থাকতে পারে।
প্রশাসন জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ এখনও চলছে। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গুজরাটে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এর আগেও আহমেদাবাদ, সুরাত এবং রাজকোট-সহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক তল্লাশি ও আটক অভিযান চালানো হয়েছিল।
জেলা-ভিত্তিক আটকের সংখ্যা এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রকাশ করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।



















