আগরতলা, ৩ জুন : ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটে দেও নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফের নতুন করে নদীভাঙনের ঘটনা সামনে এসেছে। কুমারঘাট দেও সেতু থেকে পুরনো শিবতলী যাওয়ার রাস্তার একাংশে নদীর পাড় ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এই পরিস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দেও নদীর তীরবর্তী ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনের সমস্যা রয়েছে। নদীর পাড়ের খুব কাছেই একাধিক পরিবারের বসবাস হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বর্তমানে কোনোভাবে যানবাহন চলাচল সম্ভব হলেও যেভাবে নদীর পাড় ভেঙে যাচ্ছে, তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ উঠেছে, ভাঙন রোধে উনকোটি জেলা বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর ইতিমধ্যেই কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
বুধবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান উনকোটি জেলা বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রণজিৎ দেববর্মা। তাঁর উপস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ উগরে দেন এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এলাকার বাসিন্দা শশাঙ্ক চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত চার দশক ধরে তাঁরা নদীভাঙনের সমস্যার সঙ্গে বসবাস করলেও গত তিন বছরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নদীর পাড়ে জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ড্রেন নির্মাণের দাবিও জানান স্থানীয়রা।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আপাতত জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের কাজে ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য বৃহত্তর প্রকল্প গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
এদিকে এলাকার বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আশ্বাস দেন, সমস্যার গুরুত্ব বিবেচনা করে ভবিষ্যতে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বর্ষার শুরুতেই দেও নদীর তীরবর্তী এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে কুমারঘাটবাসী।


















