কলকাতা, ৩ জুন (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ৮ জুন নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠকে যোগ দেবেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, একই দিনে দক্ষিণ কলকাতার ভবানী ভবনে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-র সদর দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর-বিভ্রাট সংক্রান্ত মামলায় চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।
প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ জুন সিআইডি দফতরে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তবে ওইদিন তিনি উপস্থিত না হয়ে ১৫ দিনের সময় প্রার্থনা করেন। তাঁর দাবি ছিল, গত ৩০ মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে জনতার হামলায় আহত হওয়ার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা অনুকূল নয়।
তবে ১ জুন সন্ধ্যাতেই সিআইডি-র তদন্তকারীরা তাঁকে দ্বিতীয় নোটিস পাঠিয়ে ৮ জুন হাজির হতে নির্দেশ দেন।
দলের এক বিধায়ক, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, “৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে নতুন করে আন্দোলন শুরু করবেন। সেই আন্দোলন শুধু রাজ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় স্তরেও গড়ে তোলা হবে। দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে তাঁর যোগদান সেই উদ্যোগেরই প্রথম পদক্ষেপ।”
তিনি আরও বলেন, ৩০ মে সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার পর ইন্ডিয়া জোটের প্রায় সব শীর্ষ নেতা সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।
ওই বিধায়কের কথায়, “লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব, আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন-সহ বহু নেতা ওই ঘটনার নিন্দা করে সংহতির বার্তা দিয়েছিলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁদের পোস্ট পুনরায় শেয়ার করে ধন্যবাদ জানান। এই সংকটময় সময়ে তাঁরা মমতা ও অভিষেকের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। ৮ জুনের বৈঠকে সেই রাজনৈতিক সংহতি আরও মজবুত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”



















