আগরতলা, ৩ জুন: কাঞ্চনপুর মহকুমায় অবৈধ কাঠ পাচার রোধে বনদপ্তরের পরিচালিত এক বিশেষ অভিযান গভীর রাতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। অভিযোগ, সেগুন কাঠ পাচারের সঙ্গে জড়িত একদল দুর্বৃত্ত বনদপ্তরের কর্মীদের উপর ধারালো অস্ত্র, বর্শা ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। ঘটনায় ৭ জন বনকর্মী গুরুতরভাবে আহত হন এবং বনদপ্তরের দুটি সরকারি গাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনাটি ঘটে কাঞ্চনপুর থানার অধীন চণ্ডীপুর এলাকায়। বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি মালিকানাধীন বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সেগুন কাঠ অবৈধভাবে পাচার করা হচ্ছে—এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে বনদপ্তরের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাচারকারীদের আটক করার চেষ্টা করে।
অভিযোগ, বনকর্মীরা এলাকায় পৌঁছানোর পরই একদল কাঠ পাচারকারী ও তাদের সহযোগীরা সরকারি দলটিকে ঘিরে ফেলে। তারা বনদপ্তরের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং পরে বনকর্মীদের উপর সংঘবদ্ধ হামলা চালায়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন বনকর্মী শান্তনু দেবনাথ, স্বপন সাহা, বান্টি মুরসুদ্দি, উজিহাম রিয়াং এবং বনরক্ষী মিন্টু ভৌমিক, দেবাশীষ পাল ও গোপীকান্ত ত্রিপুরা। হামলায় সকলেই গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কাঞ্চনপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্রীকান্ত রুদ্র পালের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে কাঞ্চনপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে হামলার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত পাচারকারীরা দুটি গাড়িতে বোঝাই বিপুল পরিমাণ সেগুন কাঠ নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র কাঞ্চনপুর মহকুমায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশপ্রেমীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান কাঠ পাচার হয়ে আসছে, যার ফলে সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বনদপ্তরের কর্মীদের উপর এ ধরনের হামলা সংগঠিত কাঠ পাচারচক্রের দৌরাত্ম্য ও প্রভাবকেই সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
ঘটনার পর কাঞ্চনপুর বনদপ্তরের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে বিশেষ অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, কাঠ পাচারচক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিতকরণ এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, অবৈধ বন উজাড় ও কাঠ পাচারের সঙ্গে জড়িত সংগঠিত চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংস ঘটনা আরও বাড়তে পারে।



















