নয়াদিল্লি, ৩ জুন (আইএএনএস): কর্ণাটকের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ডি.কে. শিবকুমারের শপথগ্রহণের আগে বুধবার তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করলেন কংগ্রেসের একাধিক নেতা। তাঁদের মতে, দল যখনই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তখনই শিবকুমার কংগ্রেসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস বিধায়ক বিজয় ওয়াডেট্টিওয়ার বলেন, “রাজ্যে যখনই দল সংকটে পড়েছে, তখনই তিনি কংগ্রেসকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। তিনি শুধু নিজের রাজ্যেই নন, দেশের অন্যান্য অংশেও একজন লড়াকু নেতা হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোও তাঁর পরিচয়ের অন্যতম অংশ।”
তিনি আরও বলেন, “কংগ্রেসের প্রতি তাঁর আনুগত্য নিয়ে কখনও আপস করেননি। তিনি সবসময় বলেছেন, ‘জেলে যেতে রাজি আছি, কিন্তু বিজেপিতে যোগ দেব না।’ তিনি সেই অবস্থানে অটল থেকেছেন। আর যে লড়াই করে, শেষ পর্যন্ত সেই জয়ী হয়। আজ মানুষ তাঁর এই লড়াকু মনোভাবকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এমন একজন নেতার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় আমি আনন্দিত।”
কংগ্রেসের মধ্যপ্রদেশ রাজ্য সভাপতি জিতু পাটওয়ারি, যিনি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বেঙ্গালুরু পৌঁছেছেন, তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সিদ্ধারামাইয়ার আমলে কর্ণাটকের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিয়ে রাজ্যের মানুষ গর্বিত। ডি.কে. শিবকুমার কংগ্রেসকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একইসঙ্গে তিনি সম্মানজনকভাবে সিদ্ধারামাইয়ার মুখ্যমন্ত্রীত্বকে সমর্থন করেছেন। রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার এটি একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।”
প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ভি. হনুমন্থা রাও বলেন, “গত ২১ বছর ধরে কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রী পদ এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির ভূমিকা নিয়ে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চলছিল। শেষ পর্যন্ত দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্ধারামাইয়ার পরিবর্তে ডি.কে. শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধারামাইয়াকে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উভয় নেতা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়ন করবেন।”
অন্যদিকে, বিজেপির বিহার রাজ্য সভাপতি সঞ্জয় সারাওগি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে তাঁর দাবি, কর্ণাটকে কংগ্রেস-বিরোধী রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, “কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তা কংগ্রেসের নিজস্ব বিষয়। তবে কর্ণাটকের বর্তমান পরিস্থিতি দেখলে মনে হচ্ছে আগামী নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা বিজেপির দিকেই ঝুঁকছেন।”
উল্লেখ্য, ডি.কে. শিবকুমার বুধবার বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে বেঙ্গালুরুর লোক ভবন-এর গ্লাস হাউসে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। তাঁকে এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন থাওয়ার চাঁদ গেহলট।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, কে.সি. ভেনুগোপাল এবং রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা-সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা।
এছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রী, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি, সাংসদ এবং দলের প্রবীণ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় নেতা, ছাত্রছাত্রী, দৈনিক মজুর, সাফাইকর্মী, কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধি, দলিত ও অনগ্রসর শ্রেণির সংগঠনের সদস্য, মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং যুব প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।



















