নয়াদিল্লি, ১ জুন (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে একটি নতুন জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) দায়ের করা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই দেশের শীর্ষ আদালত নির্বাচন কমিশনের দেশব্যাপী এসআইআর কর্মসূচির বৈধতা বহাল রেখেছিল।
সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের করা এই মামলাটি করেছেন কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ বসু। আবেদনে এসআইআর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা না হলেও নির্বাচন কমিশনকে দাবি ও আপত্তি পর্বে জমা পড়া, গৃহীত এবং বাতিল হওয়া ফর্ম-৬ ও ফর্ম-৭-এর বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আপিল ট্রাইব্যুনালগুলির কার্যপদ্ধতি সংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রকাশ এবং ভোটারদের জন্য বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজিতে সহজ নির্দেশিকা জারির দাবিও তোলা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর গণনা পর্বে ৫৮ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। পরে দাবি ও আপত্তির সময় নতুন অন্তর্ভুক্তির জন্য ৯.৬৪ লক্ষ এবং নাম বাদ দেওয়ার জন্য ৯৯,১১৮টি আবেদন জমা পড়ে।
তবে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মাত্র ১.৮২ লক্ষ নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, “যৌক্তিক অসঙ্গতি” চিহ্নিত হওয়া মামলাগুলির নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যে মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন—পিতা-মাতার সঙ্গে সন্তানের বয়সের অমিল, একাধিক সন্তানের সংযোগ বা নামের অসামঞ্জস্য—সেগুলি এসআইআর সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি কিংবা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এ উল্লেখ নেই।
এছাড়াও, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে গঠিত ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালের অভিন্ন কার্যপদ্ধতি নিশ্চিত করতে প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির ৭ এপ্রিল, ২০২৬-এ প্রণীত এসওপি প্রকাশেরও দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনকারীর বক্তব্য, এই কার্যপদ্ধতি জনসমক্ষে প্রকাশ না হওয়ায় আপিল দায়েরের নিয়ম, শুনানির পদ্ধতি, সময়সীমা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভোটারদের অধিকার সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্পষ্ট নির্দেশিকা ও আইনি সহায়তার অভাবে দরিদ্র, গ্রামীণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাররা আপিল প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে উল্লেখযোগ্য সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ সম্প্রতি রায়ে জানায়, এসআইআর প্রক্রিয়া সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ২১(৩) ধারার আওতায় পরিচালিত হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা।
তবে আদালত এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সীমিত অনুসন্ধান করতে পারলেও তা নাগরিকত্বের চূড়ান্ত নির্ধারণ হিসেবে গণ্য হবে না। এ ধরনের বিষয় নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে।
নতুন এই জনস্বার্থ মামলায় দাবি করা হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার সামগ্রিক বৈধতা বহাল থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে এর বাস্তবায়নে এখনও বেশ কিছু প্রক্রিয়াগত ঘাটতি রয়ে গেছে। ভোটারদের অধিকার সুরক্ষা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তাই আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।



















