চণ্ডীগড়, ১ জুন (আইএএনএস): হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র জেলার লোকনায়ক জয়প্রকাশ (এলএনজেপি) জেলা সিভিল হাসপাতালে এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক অবসরপ্রাপ্ত কিন্তু পুনর্নিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক বর্তমানে পলাতক বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম ডা. শৈলেন্দ্র কুমার শ্যালি। তিনি হাসপাতালের প্রিন্সিপাল মেডিক্যাল অফিসার পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর পরামর্শদাতা (কনসালট্যান্ট) হিসেবে পুনর্নিযুক্ত হয়েছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পেটের ব্যথার সমস্যায় আক্রান্ত ওই নাবালিকাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসার নামে তাঁকে বহির্বিভাগে (ওপিডি) একাধিকবার যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার জেরে হরিয়ানা সরকার অভিযুক্ত চিকিৎসকের পরিষেবা অবিলম্বে বাতিল করেছে এবং তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক উপেন্দ্র সিং সংবাদমাধ্যমকে জানান, নাবালিকাকে প্রথমে মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। গত ২৯ মে রাত প্রায় সাড়ে ৮টার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের অভিযোগে তাকে জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই সে চিকিৎসকদের জানায় যে, তাকে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
এরপর শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইন (পকসো)-এর বিধান অনুযায়ী নাবালিকার মেডিক্যাল পরীক্ষা, কাউন্সেলিং এবং বয়ান রেকর্ড করা হয়।
কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয় থানায় পকসো আইনের ৬ ও ১০ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
রবিবার স্বাস্থ্য পরিষেবার মহাপরিচালক সুমিতা মিশ্র ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্ত চিকিৎসকের চাকরি অবিলম্বে বাতিলের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকার বাবা অভিযোগ করেছেন যে, স্বাস্থ্য পরীক্ষার অজুহাতে অভিযুক্ত চিকিৎসক প্রথমে মেয়েটিকে পরীক্ষার বেডে শুতে বলেন। এরপর তার বুকে হাত দেওয়ার পাশাপাশি যৌন নির্যাতন করেন। অভিযোগ, একাধিকবার এই নির্যাতনের ফলে নাবালিকার শারীরিক যন্ত্রণা ও রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পুলিশের দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্ত চিকিৎসক নাবালিকাকে মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়ে হাসপাতাল থেকে উধাও হয়ে যান।
ডা. উপেন্দ্র সিং আরও জানান, ২৯ মে যখন নাবালিকাকে পেটের ব্যথার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তখন তার বাবাও অন্য একটি শারীরিক সমস্যার জন্য একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং তিনিও অভিযুক্ত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।
পুলিশ অভিযুক্ত চিকিৎসকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
— আইএএনএস



















