তেলিয়ামুড়া, ১ জুন : সরকারি অর্থ ব্যয় করে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধন হলেও বাস্তবে তার সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। এমনই অভিযোগ উঠেছে তেলিয়ামুড়া মহকুমার চাকমাঘাটে নির্মিত নৌকাঘাট ও বনদপ্তরের বিট অফিসকে ঘিরে। স্থানীয়দের দাবি, কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প বর্তমানে অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়ে রয়েছে।
২০২৪ সালের ১০ মার্চ খোয়াই নদীর তীরে নির্মিত চাকমাঘাট নৌকাঘাটের উদ্বোধন করেছিলেন রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী ও ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিকাশ দেববর্মা। মুঙ্গিয়াকামী রেঞ্জের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং স্থানীয় মানুষের আয়ের নতুন পথ তৈরি করা।
কিন্তু উদ্বোধনের দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির বর্তমান চিত্র হতাশাজনক। নৌকাঘাটের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। নদীর পাড়ে সারিবদ্ধভাবে পড়ে থাকা নৌকাগুলোতেও এখন আর পর্যটকদের আনাগোনা নেই। সর্বত্র অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব স্পষ্ট।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজ্যের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের তুলনায় এখানে নৌকা ভাড়া তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলে পর্যটকদের আগ্রহ দ্রুত কমে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। তাঁদের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা ও বাজার সমীক্ষার অভাবেই প্রকল্পটি ব্যর্থতার মুখে পড়েছে।
শুধু নৌকাঘাট নয়, তার পাশেই অবস্থিত বনদপ্তরের চাকমাঘাট ফরেস্ট বিট অফিস নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অফিসে কোনও কর্মী উপস্থিত নেই এবং ভবনটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ দিনই একই পরিস্থিতি থাকে। রাতের বেলায় কেবল একজন বনরক্ষী পাহারার দায়িত্ব পালন করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বনদপ্তর সংক্রান্ত সামান্য কাজের জন্যও তাঁদের তেলিয়ামুড়া যেতে হয়। ফলে স্থানীয়ভাবে বিট অফিস নির্মাণের উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জনসেবামূলক কার্যক্রম না থাকলে এই অবকাঠামো নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা আনুষ্ঠানিকভাবে চাকমাঘাট ফরেস্ট বিট অফিসের উদ্বোধন করেছিলেন। তবে বর্তমানে অফিসটির কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
এলাকার মানুষের দাবি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর অবিলম্বে নৌকাঘাট ও বিট অফিসের প্রকৃত অবস্থা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। অন্যথায় উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা এই প্রকল্পগুলি ভবিষ্যতে সরকারি অর্থ অপচয়ের উদাহরণ হিসেবেই পরিচিত হয়ে থাকবে।



















