কলকাতা, ১ জুন (আইএএনএস): স্বাক্ষর বিভ্রাট সংক্রান্ত মামলায় পশ্চিমবঙ্গ সিআইডির তলবে সোমবার হাজিরা এড়িয়ে আরও সময় চেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সিআইডির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে, বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তদন্তকারীদের সামনে হাজির হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তিনি কিছুটা সময় চেয়েছেন।
তৃণমূলের এক অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, গত ৩০ মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে এক দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিক্ষোভ ও হেনস্তার মুখে পড়েন। সেই ঘটনার জেরে তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি।
সূত্রের দাবি, তাঁর চোয়ালে ব্যথা রয়েছে এবং সারা শরীরে আঘাতজনিত যন্ত্রণা রয়েছে। সেই কারণেই সিআইডির নোটিস পাওয়া সত্ত্বেও তিনি সোমবার ভবানী ভবনে যাচ্ছেন না।
এছাড়াও তাঁর একাধিক চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরীক্ষা এখনও বাকি রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ফলে তদন্তকারীদের সামনে হাজির হতে আরও কিছু সময় চেয়েছেন তিনি।
তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় তদন্তে যোগ দেওয়ার জন্য সিআইডি সোমবার দুপুরে তাঁকে তলব করেছিল। তার আগে এই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এক ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকের নেতৃত্বে গঠিত এই দলে রয়েছেন এক ডিএসপি এবং দুই জন ইন্সপেক্টর।
বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে মনোনয়ন সংক্রান্ত নথিতে তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষরে অসঙ্গতির অভিযোগের তদন্তের সূত্রেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ মে সিআইডি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের নোটিস দেয়। প্রথমে তদন্তকারীরা হরিশ মুখার্জি রোডের তাঁর বাসভবনে নোটিস পৌঁছে দিতে যান। পরে জানা যায় তিনি কালীঘাটের অন্য বাসভবনে রয়েছেন। এরপর সিআইডি আধিকারিকরা সেখানে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে নোটিস তুলে দেন।
নোটিস পাওয়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি আইনি পরামর্শ মেনে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, দুই উপ-নেতা এবং দলের চিফ হুইপ মনোনয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাবে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষরে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পরই বিষয়টি সিআইডির তদন্তাধীন হয়।
দলীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা সচিবালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপ-নেতা এবং কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। তবে স্পিকার রথীন্দ্র বোস বিধায়কদের স্বাক্ষর-সহ একটি প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নথিতে কিছু স্বাক্ষরের অসঙ্গতি নজরে আসায় বিষয়টি সিআইডির কাছে পাঠানো হয়।
— আইএএনএস



















