বিজয়নগর (কর্নাটক), ২৮ মে (আইএএনএস): কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার পর কে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসবেন, সেটাই এখন “মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন” বলে মন্তব্য করলেন কর্নাটক বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও বিধায়ক বি.ওয়াই. বিজয়েন্দ্র। বৃহস্পতিবার হোসপেটেতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।
বিজয়েন্দ্র বলেন, “সিদ্ধারামাইয়ার পর কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কংগ্রেসের তিন বছরের শাসনে কর্নাটক আর্থিক সংকটে ডুবে গিয়েছে। মানুষের জন্য সুশাসন দেওয়ার কোনও আন্তরিক চেষ্টা এই সরকার করেনি।”
তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং সরকার শুধুমাত্র সংখ্যালঘু তোষণে ব্যস্ত থেকে কৃষক, গরিব ও যুব সমাজকে উপেক্ষা করছে।
বিজয়েন্দ্রর কথায়, “সরকার কৃষক, গরিব মানুষ ও বেকার যুবকদের সমস্যার কথা শুনতেই চায় না। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার নিয়ে লড়াই এখন প্রশাসনের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে। ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়ছে শাসন ব্যবস্থায়। রাজ্যের যুব সমাজ এই সরকারের প্রতি গভীরভাবে অসন্তুষ্ট। কর্নাটক ধীরে ধীরে মাদকের রাজধানীতে পরিণত হচ্ছে।”
সিদ্ধারামাইয়ার সম্ভাব্য পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কংগ্রেসের অন্দরে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে একাধিক গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।
বিজয়েন্দ্র দাবি করেন, “সিদ্ধারামাইয়ার পদত্যাগের পর জি. পরমেশ্বর মুখ্যমন্ত্রী হবেন, না ডি.কে. শিবকুমার, নাকি এআইসিসি সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে— তা নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। যিনিই মুখ্যমন্ত্রী হন না কেন, রাজ্যের কোনও উপকার হবে না। কর্নাটকের আর্থিক অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যা সহজে ঘুরে দাঁড় করানো সম্ভব নয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যে অরাজকতা বাড়ছে এবং মানুষ দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
বিজয়েন্দ্র বলেন, “সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চক্রান্ত করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও বিধায়কেরা কৃষকদের সমস্যার কথা শুনছেন না। বরং ক্ষমতার দৌড়ে তাঁরা দিল্লিতে শিবির করছেন।”
তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিজেপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিজয়েন্দ্র স্পষ্ট জানান, কংগ্রেস সরকারের পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং বিজেপি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।
তিনি বলেন, “এই বিষয় নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে পারি না। বিরোধী দল হিসেবে আমরা আমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছি। বিজেপি সরকার পরিচালনায় হস্তক্ষেপ করবে না বা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে না।”



















