কলকাতা, ২৮ মে (আইএএনএস): অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে তুলে দেওয়ার আগে অস্থায়ীভাবে রাখার জন্য তৈরি ‘হোল্ডিং সেন্টার’-গুলিতে থাকার, পুষ্টিকর খাবার এবং চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে মানবিক আচরণের বার্তা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নবান্নের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের হোল্ডিং সেন্টারে রাখা রাজ্য সরকারের নতুন নীতির অংশ হলেও, তাঁদের সঙ্গে কোনওরকম দুর্ব্যবহার করা হবে না— এই বার্তাও সমাজের কাছে পৌঁছে দিতে চায় প্রশাসন।
গত সপ্তাহেই পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আদালতে পেশ না করে সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি, এই অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আদালতে না তুলতে। তাঁদের ভালভাবে খাওয়ানোর পর নিকটবর্তী বিএসএফ বর্ডার আউটপোস্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।”
বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর জন্য হাকিমপুর সীমান্তে একটি অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে সেখানে বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারী জমা হতে শুরু করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে খাবার ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, এদের অনেকেই বহু বছর আগে কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে ভারতে এসেছিলেন এবং কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতেন। রাজ্যের বিজেপি সরকার অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তাঁদের অনেকেই এখন দেশে ফিরতে শুরু করেছেন।
হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে একাধিক সিলিং ফ্যান, উন্নত খাবারের ব্যবস্থা এবং শিশুদের জন্য বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে। খাবারের তালিকায় রয়েছে মাছ, মাংস, ডিম, ভাত ও রুটি। শিশুদের দিনে চারবার দুধ ও বেবি ফুড দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন পোশাক, সুগন্ধিযুক্ত সাবান এবং শ্যাম্পুও দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের বক্তব্য, অনুপ্রবেশকারী হলেও তাঁদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে না।
মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, “হোল্ডিং সেন্টারে থাকা ব্যক্তিদের থাকার ও খাবারের সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা পুলিশ ও অসামরিক প্রশাসন ভাল খাবারের ব্যবস্থা করেছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের রান্নার কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। দিনে চারবার খাবার দেওয়া হচ্ছে।”
উত্তরবঙ্গের প্রথম হোল্ডিং সেন্টার সোমবার মালদা জেলার ইংলিশবাজার সংলগ্ন বাগবাড়ির চন্দন পার্কে চালু হয়েছে। এটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বিপণন কেন্দ্রের একটি ভবনে তৈরি করা হয়েছে।
সেখানে তিনজন পুলিশ অফিসার, এক ডজন পুলিশকর্মী এবং কয়েকজন সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন রয়েছেন। এছাড়াও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরাও রয়েছেন। এলাকায় হ্যালোজেন আলো ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং সারা রাত এলাকা আলোকিত রাখা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, বর্তমানে সেখানে নতুন কোনও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী আনা হয়নি। আপাতত তিন মহিলা, ছয় শিশু এবং এক কিশোর-সহ মোট ন’জন সেখানে রয়েছেন।



















