নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানাল বিজেপি। দলের দাবি, এই রায়ে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস ‘অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষেই’ দাঁড়িয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিয়ে জানিয়েছে, এই উদ্যোগ সাংবিধানিক এবং আইনগত ক্ষমতার আওতায় পড়ে। পাশাপাশি আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, “রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের অবস্থান আজ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর প্রক্রিয়াকে আইনসম্মত এবং সাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “কংগ্রেস শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছে কারণ তারা ভারতীয় ভোটারদের নয়, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এটি প্রকৃত অর্থেই দেশবিরোধী পদক্ষেপ ছিল। ভারতীয় গণতন্ত্রকে অপমান করার জন্য আজ কি রাহুল গান্ধী ক্ষমা চাইবেন?”
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানায়, এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (আরপিএ), ১৯৫০-এর কোনও বিধান বা সংশ্লিষ্ট নিয়ম লঙ্ঘন করে না। আদালত জানায়, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ এবং আরপিএ আইনের ২১(৩) ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের সংশোধন প্রক্রিয়া চালানোর ক্ষমতা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, নির্বাচন কমিশন তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেনি। বরং এই পদক্ষেপ সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যকে বাস্তব রূপ দিয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, “অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন শুধু ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে না। এর ভিত্তি হলো নির্ভুল, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য ভোটার তালিকা।”
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শেষ নিবিড় সংশোধনের পর চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। এই সময়ে বিপুল পরিমাণ নাম সংযোজন-বিয়োজন, দ্রুত নগরায়ন এবং জনসংখ্যার স্থানান্তরের ফলে ভোটার তালিকায় ত্রুটি ও পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিহার থেকে শুরু হওয়া এই এসআইআর প্রক্রিয়া পরে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল এবং তামিলনাড়ু-সহ একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সম্প্রসারিত হয়। এই প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে একাধিক আবেদন দায়ের করা হয়েছিল, যার ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়।
______



















