নয়াদিল্লি, ২৫ মে (আইএএনএস): ভারতের ইস্পাত শিল্প এখন এমন এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে উন্নয়নের মাপকাঠি শুধু উৎপাদনের পরিমাণ নয়, বরং টেকসই বৃদ্ধি ও পরিবেশগত ভারসাম্যও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। কুয়েতের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস কুয়েত-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের প্রস্তাবিত জাতীয় ইস্পাত নীতি ২০২৫-এর লক্ষ্য হল ২০৩৫-৩৬ সালের মধ্যে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমান প্রায় ১৬৮ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ৪০০ মিলিয়ন টনে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নগরায়ণ এবং উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতির দ্রুত অগ্রগতির প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রায় ১৮৩.৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই বিপুল বিনিয়োগ খনি, পরিবহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং রপ্তানি— গোটা শিল্প শৃঙ্খলকেই আরও গতিশীল করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ভারতের ইস্পাত শিল্প দেশের মোট জিডিপিতে প্রায় ২.৫ শতাংশ অবদান রাখছে এবং প্রায় ২৮ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০৩৫-৩৬ সালের মধ্যে আরও ৩০ লক্ষের বেশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে বলে অনুমান।
একইসঙ্গে কার্বন নির্গমন কমানোর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট রূপরেখা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় নীতিতে ২০৩৫-৩৬ সালের মধ্যে প্রতি টন সমাপ্ত ইস্পাত উৎপাদনে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন বর্তমান প্রায় ২.৬৫ টন থেকে কমিয়ে ২ টনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, দেশের মোট কার্বন নির্গমনের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ আসে ইস্পাত উৎপাদন শিল্প থেকে। ফলে এই নির্গমন কমানো ভারতের ২০৭০ সালের মধ্যে ‘নেট-জিরো’ নির্গমন লক্ষ্যে পৌঁছনোর বৃহত্তর প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরিবেশগত লক্ষ্য পূরণে কয়লাভিত্তিক উৎপাদনের বিকল্প হিসেবে গ্যাস-ভিত্তিক ইস্পাত উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিল্পে স্ক্র্যাপ-ভিত্তিক উৎপাদনের প্রবণতাও বাড়ছে, যা পুনর্ব্যবহার ও পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশগত প্রভাব কমাতে সাহায্য করবে।
প্রযুক্তি ও পরিকাঠামো উন্নয়নকেও এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং শিল্প কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা— পরিচ্ছন্ন ও দক্ষ ইস্পাত উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



















