শিমলা, ২৫ মে (আইএএনএস): হিমাচল প্রদেশে পঞ্চায়েত ও নগর স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনে রাজ্যের কংগ্রেস সরকার হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ তুলে সোমবার রাজ্যপাল কবিন্দর গুপ্তর সঙ্গে দেখা করল বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাজীব বিন্দল।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয় রাম ঠাকুর- সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা ও পদাধিকারী।
লোক ভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রতিনিধি দল একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় নির্বাচনের সময় সরকার বারবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে, নির্বাচন চলাকালীন নিয়ম পরিবর্তন করছে এবং প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজীব বিন্দল বলেন, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষার স্বার্থে তারা রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, হিমাচলে পঞ্চায়েত ও পুর নির্বাচনের ঐতিহ্য দলনিরপেক্ষ হলেও সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছেন।
বিন্দলের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ার পরও সরকার নিয়ম ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধিতে সংশোধন এনেছে। পাশাপাশি পুর কাউন্সিল ও নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচনের নিয়ম বদলে প্রশাসনিক কর্তাদের অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা পরোক্ষে কংগ্রেসের রাজনৈতিক সুবিধার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়ছে এবং স্থানীয় নির্বাচনে বড় পরাজয়ের আশঙ্কায় দলটি ভুগছে। পরাজয়ের ভয়ে বহু জায়গায় কংগ্রেস প্রার্থীও দিতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, জয় রাম ঠাকুর অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, সরকার আগে পঞ্চায়েত নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু উচ্চ আদালত ও সুপ্রিম কোর্টে ব্যর্থ হয়। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের ফলেই বর্তমানে নির্বাচন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঠাকুর আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থীদের সমর্থনে সভা থেকে উন্নয়ন তহবিল ও আর্থিক অনুদানের ঘোষণা করেছেন। তাঁর দাবি, ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে, যা সরাসরি নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের শামিল।
এছাড়াও তিনি দাবি করেন, বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীরা ২৫টির মধ্যে ১৮টি পুর কাউন্সিল এবং ২২টির মধ্যে ১২টি নগর পঞ্চায়েতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। এরপরই সরকার চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচনের নিয়ম পরিবর্তন করে রাজনৈতিক চাপ ও ঘোড়াবেচার সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজেপির অভিযোগ, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কংগ্রেস সমর্থিত শিবিরে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং রাজ্যপালের কাছে তারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও জনমতের মর্যাদা রক্ষায় হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে।



















