নয়াদিল্লি, ২৫ এপ্রিল(আইএএনএস): তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন এবং উপনির্বাচন ঘিরে ভোট-পরবর্তী নথি খতিয়ে দেখে কোথাও পুনর্ভোটের সুপারিশ করা হয়নি বলে শনিবার জানাল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, সম্ভাব্য অনিয়ম চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন হলে পুনর্ভোটের সুপারিশের উদ্দেশ্যে ভোটারদের রেজিস্টার (ফর্ম ১৭এ) সহ ভোটের দিনের অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল যেসব ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল, সেগুলির সবকটিতেই শুক্রবার এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। রিটার্নিং অফিসারদের তত্ত্বাবধানে সাধারণ পর্যবেক্ষক এবং ৬০০-র বেশি প্রার্থী বা তাঁদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই কাজ হয়। মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থীকে আগেই সময় ও স্থানের তথ্য জানানো হয়েছিল।
পর্যালোচনার পর কমিশন জানায়, প্রথম দফায় রাজ্যের ৪৪,৩৭৬টি বুথের কোনওটিতেই পুনর্ভোটের প্রয়োজন হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল।
একইভাবে তামিলনাড়ুতেও ২৩৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই শুক্রবার পর্যালোচনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে ১,৮২৫ জন প্রার্থী বা তাঁদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যে মোট ৪,০২৩ জন প্রার্থীকে আগেই এই বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল।
কমিশন জানিয়েছে, তামিলনাড়ুর ৭৫,০৬৪টি বুথের কোনওটিতেই পুনর্ভোটের সুপারিশ করা হয়নি।
ইসিআই আরও জানায়, দুই রাজ্যেই এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে ভিডিওগ্রাফ করা হয়েছে এবং পরীক্ষা শেষে ফর্ম ১৭এ সহ অন্যান্য নথি পুনরায় সিলমোহর করা হয়েছে। ইভিএম-ভিভিপ্যাট মেশিনগুলি ডাবল লকযুক্ত স্ট্রংরুমে কড়া নিরাপত্তায় সিসিটিভি নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।
প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের স্ট্রংরুমের কাছাকাছি ক্যাম্প বসানোর অনুমতিও দেওয়া হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নজর রাখা যায়।
উল্লেখ্য, ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে দুই রাজ্যেই উল্লেখযোগ্য ভোটার উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। তামিলনাড়ুতে প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং পশ্চিমবঙ্গে ১৫২টি আসনে ৯২ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণেরই প্রতিফলন।


















