চেন্নাই, ২২ এপ্রিল (আইএএনএস): তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে গত কয়েক দশকে নারী অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়লেও এখনও প্রার্থীপদে পুরুষদেরই প্রাধান্য বজায় রয়েছে।
২৩ এপ্রিলের নির্বাচনে রাজ্য জুড়ে মোট ৪৪৩ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ৩,৫৭৯। ফলে মোট প্রার্থীদের মধ্যে নারীদের অংশ প্রায় ১২ শতাংশের কাছাকাছি।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৬৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭৮ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১১ জন ছিলেন নারী। ১৯৮৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৬। এরপর ২০০৬ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১৫৬-এ। ২০২১ সালের নির্বাচনে ৩,৯৯৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪১৩ জন ছিলেন নারী, যা নারী অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা তুলে ধরে।
তবে সংখ্যায় বৃদ্ধি হলেও রাজনৈতিক দলগুলি এখনও সীমিত সংখ্যক নারীকে প্রার্থী করছে। এই সতর্ক মনোনয়ন কৌশলই অনেক ক্ষেত্রে নারীদের নির্বাচনী সাফল্যের হার বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
১৯৮৪ থেকে ২০১৬ সালের নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, নারী প্রার্থীদের জয়ের হার পুরুষদের তুলনায় বেশি ছিল। অর্থাৎ, যেসব নারী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যকই জয়ী হয়েছেন।
এছাড়া, প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার হারও নারীদের ক্ষেত্রে কম ছিল, যা তাদের নির্বাচনী পারফরম্যান্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলি সাধারণত সেই সব কেন্দ্রে নারী প্রার্থীদের দাঁড় করায়, যেখানে জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে। ফলে সংখ্যায় কম হলেও তাঁদের সাফল্যের হার তুলনামূলকভাবে বেশি।
তথ্য থেকে আরও স্পষ্ট, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এখনও কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা রয়েছে এবং পুরুষরাই অধিকাংশ আসনে প্রাধান্য পাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ালেই যথেষ্ট নয়, বরং দলীয় কাঠামো এবং নির্বাচনী সুযোগের ক্ষেত্রেও সমতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তামিলনাড়ু যখন ভোটের মুখে, তখন নারী প্রার্থীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি যেমন ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে, তেমনই রাজনৈতিক ক্ষেত্রে লিঙ্গসমতার লক্ষ্যে এখনও অনেকটা পথ চলা বাকি রয়েছে।


















