আগরতলা, ১৮ এপ্রিল: গত ১৭ এপ্রিল মহাকরণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্ত্যের সভাপতিত্বে স্টার এনসিডি গবেষণা প্রকল্পের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্টার এনসিডি প্রকল্পটি হলো একটি ‘ইমপ্লিমেন্টেশন রিসার্চ’, যা ন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্রনিক ডিজিজ কন্ট্রোল এইমস নয়াদিল্লি, আগরতলা গভঃ মেডিকেল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতাল এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ত্রিপুরার উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জাতীয় কর্মসূচির অধীনে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও জোরদার করা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ত্রিপুরার মিশন অধিকর্তা সাজু ওয়াহিদ এ, স্বাস্থ্য অধিকারের অধিকর্তা ডাঃ দেবাশ্রী দেব্বমা, পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধক অধিকারের অধিকর্তা ডাঃ অঞ্জন দাস এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্রনিক ডিজিজ কন্ট্রোলের বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী, এইমস দিল্লি, আগরতলা গভঃ মেডিকেল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতাল-এর বরিষ্ঠ সদস্যবৃন্দ এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আধিকারিকবৃন্দ।
সভায় অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত জাতীয় কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। গবেষণা দলটি জানিয়েছে যে, অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যেমন- উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্লক পাবলিক হেলথ ইউনিটগুলোতে ‘সেমি অটো অ্যানালাইজার’ স্থাপনের মাধ্যমে ডায়াগনস্টিক বা রোগ নির্ণয় সুবিধার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে উন্নতমানসম্পন্ন চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তদারকির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিষেবা প্রদানের বিষয়টি তদারকি করার জন্য পঞ্চায়েতিরাজ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অসংক্রামক রোগ স্ক্রিনিং পরিষেবা ১০০ শতাংশ জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। শনাক্তকৃত রোগীদের রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পোর্টাল-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সচিব ও এনএইচএম-এর মিশন অধিকর্তা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এআই ব্যবহার করে একসাথে ডেটা এন্ট্রি ও হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হবে, যাতে ওষুধের সরবরাহ সহজে নজরে রাখা যায়। স্টার এনসিডি দল সুপারিশ করেছে যে, জরুরি প্রয়োজনে সবসময় ওষুধ মজুত রাখতে হবে, যাতে কোনো রোগী বিনামূল্যে ওষুধ সহজেই পেয়ে যান। স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকগণ আশ্বাস দিয়েছেন, রোগীরা গুনগতমানসম্পন্ন ওষুধ সংগ্রহ করতে পারবেন।
গবেষণা দলটি রাজ্যে অনুষ্ঠিত ‘মুখ্যমন্ত্রী নিরাময় আরোগ্য অভিযান’ এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। এই অভিযানের ফলে অসংক্রামক রোগ শনাক্ত করা ও উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসা আরও উন্নত হয়েছে। শহরের বস্তি ও পাহাড়ি এলাকার মানুষ এখন স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা মেনে চলতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। রাজ্যে অসংক্রামক রোগ (যেমন-ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যানসার) দ্রুত খুঁজে বের করা ও চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করার জন্য ১ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি, ২০২৬পর্যন্ত প্রথম দফায় এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। ১০৩৪টি শিবিরে প্রায় ৭৪ হাজার মানুষ পরিষেবা পেয়েছেন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের ১৯১টি শিবিরে প্রায় ৬৬ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন। ৩.৫ লাখের বেশি মানুষের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ হাজারের বেশি উচ্চ রক্তচাপ রোগী এবং প্রায় ৩৫ হাজার ডায়াবেটিস রোগী ধরা পড়ে। ১ লক্ষ ৯৮ হাজার মানুষের মুখগহ্বর ক্যানসার পরীক্ষা করা হয়। ৭৪ হাজারের বেশি মহিলার স্তন, জরায়ু ও মুখের ক্যান্সার পরীক্ষার পাশাপাশি যারা ফলো-আপ এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাদেরও পরীক্ষা করা হয়। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।


















