নিজস্ব প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া, ১৮ এপ্রিলঃ ত্রিপুরা স্ব-শাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি) নির্বাচনে তিপ্রা মথার জয়ের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাসের অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। অগ্নিকাণ্ড, বাড়িঘর ভাঙচুর, রাজনৈতিক কর্মীদের উপর হামলা এবং বাজার বন্ধ করে দেওয়ার মতো একাধিক ঘটনার খবর মিলছে বিভিন্ন এলাকা থেকে।
এই প্রেক্ষাপটে তেলিয়ামুড়া মহকুমার ১১ নম্বর মহারানীপুর এডিসি আসনের অন্তর্গত তুইমধু এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, তিপ্রা মথার একাংশ কর্মী-সমর্থকরা বিজয়ের পর বিজেপি নেতার বাড়িতে হামলা চালায়। বিজেপির মাইনোরিটি মোর্চার জেলা সভাপতি রশিদ মিয়া দাবি করেছেন, তাঁর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। পরিস্থিতির জেরে তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, একই এলাকায় অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন বিজেপি কর্মী আক্রমণের আশঙ্কায় একটি বিশ্রামাগারে আশ্রয় নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তুইমধু এলাকায় বিজেপির একটি পার্টি অফিস ভেঙে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি, জাতীয় সড়কের ধারে চাকমাঘাট বাজারে কৃষ্ণপুর মন্ডল কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
এদিকে, একাংশ স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, এই পরিস্থিতির পেছনে উস্কানিমূলক বক্তব্য দায়ী। তাঁদের দাবি, এলাকার বিধায়ক তথা জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন, যার প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে।
যদিও তিপ্রা মথার শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন নির্বাচনোত্তর শান্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন, তবুও বাস্তবে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।


















