News Flash

  • Home
  • বিদেশ
  • ফরিদাবাদ থেকে নাসিক: সন্ত্রাসী মডিউলের বদলানো রূপে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ
Image

ফরিদাবাদ থেকে নাসিক: সন্ত্রাসী মডিউলের বদলানো রূপে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ

নয়াদিল্লি, ১৬ এপ্রিল (আইএএনএস): দিল্লিতে গত বছরের নভেম্বর মাসে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত ফরিদাবাদ মডিউল মামলাটি দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বড় সতর্কবার্তা হিসেবে উঠে এসেছে। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলি এখন ক্রমশ ‘হোয়াইট-কলার’ বা উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের ব্যবহার করার দিকে ঝুঁকছে, যা তাদের কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ফরিদাবাদ মডিউলটি ছিল বড় ও সুসংগঠিত, যেখানে চিকিৎসকরা নেতৃত্বে ছিলেন। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) সংক্রান্ত মামলায় আইটি পেশাদার ও এক এইচআর ম্যানেজারের জড়িত থাকার তথ্য সামনে এসেছে। এই মডিউলটি মূলত ধর্মান্তর ও উগ্রপন্থা ছড়ানোর কাজে যুক্ত ছিল।

অধিকর্তারা জানিয়েছেন, পেশাগত পরিচয়ের কারণে এই ধরনের মডিউলগুলি দীর্ঘ সময় নজরের বাইরে থেকে যায়। ফরিদাবাদ ও নাসিক—দু’টি ক্ষেত্রেই মডিউলগুলি প্রায় ৩ থেকে ৪ বছর সক্রিয় ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, এই ধরনের অপারেটিভরা খুব কম নির্দেশনাতেই কাজ করতে সক্ষম। তারা অনলাইনে বিভিন্ন পদ্ধতি ও তথ্য সংগ্রহ করে স্বতন্ত্রভাবে কার্যকলাপ চালাতে পারে। এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থায় দক্ষ হওয়ায় এদের কার্যকলাপ চিহ্নিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

ফরিদাবাদ মডিউলের সদস্যরা ‘ঘোস্ট সিম’ ও এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করত, আর নাসিক মডিউলটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে যোগাযোগ ও লক্ষ্য নির্ধারণ করত বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ইসলামিক স্টেট ও আল-কায়েদা-এর মতো সংগঠনগুলি ভবিষ্যতে সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার বদলে এই ধরনের মডিউলকে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দিয়ে স্বনির্ভরভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করতে পারে।

এছাড়া, পাকিস্তানভিত্তিক গুপ্তচর সংস্থা আন্তঃ-সেবা গোয়েন্দা সংস্থা (আইএসআই) দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য বিনিয়োগ করছে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। বিশেষত জম্মু-কাশ্মীর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল-কলেজ স্তরে তরুণদের লক্ষ্য করে উগ্রপন্থা ছড়ানোর চেষ্টা চালানো হয়েছে।

সূত্রের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে এবং অনেককে পাকিস্তানে না পাঠিয়ে তুরস্ক ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পড়াশোনার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে, যাতে তাদের উপর নজরদারি কম থাকে। দেশে ফিরে এসে তারা নতুন করে নেটওয়ার্ক বিস্তারে ভূমিকা নিতে পারে।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন পর্যন্ত ধরা পড়া বিভিন্ন মডিউলের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে দেখছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই এই নেটওয়ার্কগুলি আলাদা ভাবে কাজ করে, ফলে দীর্ঘদিন ধরা না পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

অধিকর্তাদের মতে, আইএসআই-এর মূল লক্ষ্য সম্ভবত সরাসরি সমন্বয়ের চেয়ে এই ধরনের মডিউলের সংখ্যা বাড়ানো—যা ভবিষ্যতে আরও বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

Releated Posts

তদন্তে আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি, নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে ফিরছেন সুধান গুরুং

কাঠমান্ডু, ৯ জুন: আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে গত ২২ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া সুধান গুরুং…

ByByNews Desk Jun 9, 2026

ভারত-নেপাল সীমান্তে রিয়েল-টাইম ডিজিটাল লেনদেনের নতুন যুগ, চালু হল ইউপিআই-এনপিআই সংযোগ

নয়াদিল্লি, ৯ জুন: ভারত ও নেপালের মধ্যে রিয়েল-টাইম, স্বল্প খরচে এবং নিরাপদ সীমান্ত-পার অর্থ স্থানান্তরের সুবিধা চালু হল।…

ByByNews Desk Jun 9, 2026

বাংলাদেশে অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ সাংসদ রুমিন ফারহানার

ঢাকা, ৯ জুন (আইএএনএস): বাংলাদেশে ক্রমাবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।…

ByByNews Desk Jun 9, 2026

রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের সমালোচনার জবাব ভারতের, আফগানিস্তান ও ইউএনএএমএ-র পাশে দিল্লি

রাষ্ট্রসংঘ, ৯ জুন (আইএএনএস): রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফগানিস্তান এবং রাষ্ট্রসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)-এর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সমালোচনার কড়া জবাব…

ByByNews Desk Jun 9, 2026
Scroll to Top